আমাদের ভারত, ১৪ আগস্ট:
“স্বপ্নদীপ! একটু তরঙ্গ তুলেছে। এমন গভীর বেদনার মধ্য থেকে যাদবপুর কি নতুন কোনও উজ্জ্বল সীমান্তের সন্ধান পাবে? আমার উত্তর — না।” সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এই মন্তব্য করলেন শিক্ষাবিদ তথা প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাস।
‘যাদবপুর নিয়ে’ শিরোনামে তিনি লিখেছেন, “প্রতিষ্ঠা থেকেই এক রকম স্ববিরোধ ছিল। শিক্ষণ-রীতি ছিল মার্কিন প্রভাবিত, দেশে জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ক্রমে তলানিতে নামছে তখন। ঢাকুরিয়া রেল গেট পার হলে কলোনি অঞ্চল। শিক্ষা এখানে চাকরি পাবার একমাত্র অবলম্বন। সান্ধ্য বিভাগ চালু হয় উদ্বাস্তুদের জীবিকার উন্নতির কথা মাথায় রেখে। পরে বাম রাজনীতি গেড়ে বসল। নকশাল বাদের রক্ত নেশা ফেনিয়ে উঠল।
এখনও স্ববিরোধ সবখানে। ধর্ম নিরপেক্ষতার ভাণ ঘুচে যায় ওপেন এয়ার থিয়েটারে বার্ষিক ইফতারে। হস্টেলে পাঁঠার মাংস হলে প্রকাশ্যে জবাই করে নিজেরা রান্না করে “ধর্মপ্রাণ”- রা! তবু, বেশ কিছু যথার্থ ছাত্র ছাত্রী আসে। তাদের উদ্দেশ্য ক্যারিয়ার গড়া। ক্যাম্পাসিং হয়, চলে যায়। এক দেশ চেতনাহীন মূঢ় আলস্যের মধ্যে তাদের বৈভবের দিন কাটে।
সমাজ প্রস্তুত নয়। শিক্ষা না, ঘুষ দেবার ক্ষমতা এরাজ্যে আজ জীবিকা প্রাপ্তির উপায়। বিদেশে প্রবাসে চাকরি ম্যানেজ করার জন্য দক্ষতা প্রতিভার চেয়ে বেশি দরকার হয় হৃদয়হীন স্বার্থপরতা। এটা তো অধ্যাপকরা শেখাবেন না। যাদবপুরের ‘বিপ্লবী’রা সব প্রবাসে বিদেশে চলে যাবার পর ফিরে তাকায় না প্রায়ই। মাঝখানে কিছুদিন হাওয়া বন্দুক আর পোস্টার, গণ সঙ্গীত বা তত্ত্ববিচার। অভিভাবকরাও তাই চান না কি?”

