যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বই খুলে পরীক্ষার প্রস্তাব, কী বলছেন শিক্ষাবিদরা

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৬ এপ্রিল: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বই খুলে পরীক্ষার প্রস্তাবে শিক্ষাবিদ মহলে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নেওয়া সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে ওপেন বুক ইভ্যালুয়েশন অর্থাৎ বই খুলেই পরীক্ষা দিতে পারে ছাত্রছাত্রীরা। এই প্রস্তাব নিয়ে আগামী ৮ ই এপ্রিলের মধ্যে বিভাগীয় প্রধানদের রিপোর্ট পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। বিভাগীয় প্রধানের থেকে রিপোর্ট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীন অধ্যাপক তরুণ নস্কর এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করি না।“ সারা বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সম্পাদক গৌতম মাইতি এই প্রতিবেদককে এ ব্যাপারে বলেন, “মঙ্গলবার এরকম একটা প্রস্তাব কর্তৃপক্ষের কাছে এসেছে। আমি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষক সংগঠন এর প্রতিবাদ করেছি। এগুলো নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের থেকেও মতামত চাওয়া হয়েছে। ৮ ই এপ্রিলের মধ্যে মতামত চাওয়া হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফাইনাল সেমিস্টারের পরীক্ষা নিয়ে। “ পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন ‘ওয়েবকুটা’-র প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শ্রুতিনাথ প্রহরাজ প্রতিক্রিয়ায় এই প্রতিবেদককে এ ব্যাপারে বলেন, “বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। যদি ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকে এই দাবি এসে থাকে তবে তার ফলাফল সুদুরপ্রসারী হতে বাধ্য। তবে একটা কথা ঠিক, প্রশ্ন যদি তেমন তৈরী হয়, বই খুলে দেখে লেখায় ছাত্রছাত্রীদের বদনাম ছাড়া লাভ কিছু হবেনা। যেহেতু বিষয়টি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে, তাই আমার বিশ্বাস ওখানকার ছাত্র-শিক্ষক যৌথ আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসাযোগ্য কোনো সমাধান সূত্র নিশ্চয়ই বার করবেন।”

তবে বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়কে স্বাগত জানিয়েছেন বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদ তথা প্রাক্তন উপাচার্য পবিত্র সরকার। তিনি বলেন “বিদেশেও এই ধাঁচেই পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।” প্রবীন প্রযুক্তি-বিশেষজ্ঞ তথা শিবপুরের ‘বেসু’-র প্রাক্তন উপাচার্য নিখিল রঞ্জন ব্যানার্জী এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইছি না।“ যদিও গোটা বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পড়ুয়ারা আন্দোলন করছিলেন। অফলাইনে এর বদলে অনলাইনেও পরীক্ষার দাবি তুলেছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একাংশের পড়ুয়া। যদিও গোড়া থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অফলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়ে অনড় ছিল। শুধু তাই নয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বা ‘জুটা’-র পক্ষ থেকেও অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল অফলাইনেই পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষপাতী। টানা আন্দোলন চলাকালীন দীর্ঘক্ষণ সহ-উপাচার্যকে ঘেরাও করে রাখেন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের একাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *