আমাদের ভারত, ১৮ জুলাই: যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি সেটা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নয়। দেশের স্বাধীনতা নিয়ে এমনটাই বিশ্বাস বাম কমরেডদের। সমালোচকরা বলেন, ৭৪ বছর পর সেই ভুল ভেঙেছে বামেদের। স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতীয় পতাকা থেকে যে তাদের মুখ ফিরিয়ে রাখা ঠিক হয়নি তা বুঝতে পেরে গত বছর পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাধীনতা দিবসের পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। আর এই সিদ্ধান্তে হইচই পড়ে যায়। অনেকেই এটিকে বিলম্বিত বোধোদয় বলে কটাক্ষ করেন। এবার আরও এক কদম এগিয়ে ১৫ দিন ধরে দেশজুড়ে স্বাধীনতা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিল লাল ঝান্ডা বাহকরা।
তবে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন পার্টির সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন রাইটার্সে নিয়মিত জাতীয় পতাকা তুলতেন বাংলার দুই প্রাক্তন বাম মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। আর আলিমুদ্দিন বরাবরই যুক্তি দিত এটি পার্টির কর্মসূচি নয় সরকারি অনুষ্ঠান। সেই কারণেই তারা জাতীয় পতাকা তুলেছেন। কিন্তু বিলম্বিত বোধোদয় গতবছর হবার পরও বিপত্তির মুখে পড়তে হয়েছিল আলিমুদ্দিনকে। গতবছর বিমান বসু পতাকা তুলতে যাওয়ার সময় পতাকা উল্টো হয়ে ওঠা শুরু করে। কোনো রকমে তা মাঝপথে থামিয়ে ফের পতাকা নামিয়ে ঠিক করে তোলা হয়।
কিন্তু চলতি বছর স্বাধীনতার ৭৫ বছর। আর তা নিয়ে আলোচনায় বসেন কমরেডরা। পলিটব্যুরোতে যেমন আলোচনা হয় রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে, তেমনই আলোচনা হয়েছে স্বাধীনতা দিবসে পার্টির ভূমিকা নিয়েও। ঠিক হয়েছে শুধুমাত্র একদিন নয় দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে স্বাধীনতা দিবস পালন করবে সিপিআইএম। প্রতিটি রাজ্যে পার্টির পলিটব্যুরোর সিদ্ধান্ত মেনে পরিকল্পনা করার নির্দেশও দেওয়া হবে।
কিন্তু কেন এই ঘটা করে স্বাধীনতা দিবস পালন? সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, মোদী সরকার দেশের সংবিধানের ওপর আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। সংবিধান সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এবং তাদের অধিকার নিয়ে ১৫ দিন ধরে প্রচার চালাবে তাদের পার্টি। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন কেরলের বাম সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপি-কংগ্রেস চক্রান্ত করছে। বাংলা তৃণমূলের সাথে সুর মিলিয়ে তার দাবি কেন্দ্র নানাভাবে বিজয়ন সরকারকে হেনস্থা করতে পরিকল্পনা করেছে।

