কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ১৭ মার্চ:
বিশ্বাসঘাতকরা নন, সংগ্রামীরাই ইতিহাস গড়েন। নন্দীগ্রাম থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে মমতা ব্যানার্জি তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সেই ইতিহাস গড়বেন।
বুধবার দাঁতন ও চন্দ্রকোনায় দুটি নির্বাচনী সভা করে এই বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি ও সাংসদ অভিনেতা দেব এদিন হেলিকপ্টার চড়ে প্রথমে যান দাঁতনের তুর্কা এলাকায়। এখানে তৃণমূল প্রার্থী বিক্রম প্রধানের হয়ে সভা করেন। এই সভা শেষ করে বিকেলে তাঁরা চন্দ্রকোনার তৃণমূল প্রার্থী অরূপ ধাড়ার সমর্থনে জাড়া গ্রামে একটি সভা করেন। সভা শেষে রোড শো করেন।
শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর পরিবারকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়ে সৌগতবাবু জানান, অনেকে মমতাকে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও প্রার্থী হতে বলেছিলেন। তিনি রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন যে নন্দীগ্রামে কৃষকদের জমি রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম সেখান থেকেই লড়বেন। আর নন্দীগ্রামে অধিকারী পরিবার হারছে এটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে মমতার পায়ে আঘাত লাগার পর ওঁরা ভেবেছিলেন উনি আর প্রচার করতে পারবেন না, কিন্তু তা হয়নি। উনি ভাঙ্গা পা নিয়েই হুইল চেয়ারে বসে প্রচার করছেন। দিল্লি থেকে আসা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা যে বাংলার ভালো চান না তা উল্লেখ করে তিনি জানান, এবারের নির্বাচন বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
সভায় আসা হাজার হাজার মানুষের সামনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যিনি রাজ্যের ১০ কোটি মানুষকে খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, ৫৯ ছাত্রীকে কন্যাশ্রী, ৮৪ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে সাইকেল, ৯ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে স্মার্টফোন কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা, লোকশিল্পীদের ভাতা, ইমাম, পুরোহিতদের ভাতা দিয়েছেন, ৬৭টি প্রকল্প চালু করেছেন সেই মমতা ব্যানার্জিকে ভোট দেবেন না নরেন্দ্র মোদীকে। পেট্রোলের দাম ৯১ টাকা, ডিজেলের দাম ৮৪ টাকা, রান্নার গ্যাসের দাম ৮৪৫ টাকা করেছেন, কৃষিবিল এনে কৃষকদের সর্বনাশ করেছেন তাঁকে ভোট দেবেন?
সৌগত রায় বলেন, মোদী থাকা মানে সাম্প্রদায়িক শক্তি শক্তিশালী হবে। দাঙ্গা হবে পুঁজিপতিদের পকেট ভারি হবে। আর মমতা থাকা মানে বিনে পয়সায় রেশন, বিনে পয়সায় স্বাস্থ্য, বিনে পয়সায় শিক্ষা আর উন্নয়নে ভরে উঠবে বাংলা।
সাংসদ অভিনেতা দেব ওরফে দীপক অধিকারী জানান, তিনি ২০১৪ সাল থেকে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। মমতা ব্যানার্জি একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি করোনার সময় হোক বা আমফান, রাস্তায় নেমে মানুষের পাশে থেকে সেবা করেছেন। উনি বাংলার উন্নয়নের কথা ভাবেন। উন্নয়ন করে দেখিয়েছেন। বিজেপি বাংলায় হিন্দু মুসলিম বিভাজন করে ভোট চাইছে। সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরী করছে এই অভিযোগ করে জানান, নির্বাচন উন্নয়ন নিয়ে হোক, মন্দির মসজিদ হিন্দু মুসলিম নিয়ে নয়। এর পাশাপাশি তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের হিন্দুত্ব শেখাতে এসো না। বাংলায় বারো মাসে তেরো পার্বনে যত দেবদেবীর পুজো হয় সারা ভারতবর্ষে কোথাও তা হয় না।

