আমাদের ভারত, ৩০ মার্চ: তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করার ছক কষা হচ্ছে। দার্জিলিং-এ মহাকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরিয়ে এসে বুধবার এই অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ শুনে আশ্চর্য হয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এবিষয়ে তিনি পাল্টা মন্তব্য করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন কেন গ্রেফতার করা হয়নি অনুব্রতকে?
বগটুই কাণ্ডের পর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল গঠন করেন। সেই দলের সদস্যরা বগটুই ঘুরে যান। বিজেপির সত্যতা যাচাইকারী এই কমিটি বুধবার বগটুই নিয়ে তাদের রিপোর্ট তুলে দেন নাড্ডার হাতে। সেই রিপোর্টকেই অভিসন্ধিমূলক বলে সোচ্চার হয়েছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ওই রিপোর্টে বীরভূমের তৃণমূল সভাপতির নাম রয়েছে। তার দাবি আসলে এই সব কিছুর মাধ্যমে অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করার ছক কষা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “অনুব্রত এতদিন কেন গ্রেফতার হননি সেটাইতো অদ্ভুত ব্যাপার। ওরতো অবশ্যই গ্রেপ্তার হওয়া উচিত। সিবিআই গরু পাচার কান্ডে ডাকছে, আর উনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, “এমন ব্যক্তির রাজনীতিতে থাকাটাও সমাজের পক্ষে বিপদজনক। যিনি গুড় বাতাসা আর চড়াম চড়াম রাজনীতির কথা বলেন, তাকে কেন গ্রেফতার করা হবে না?”
বগটুই কাণ্ডের পর রাজ্য বিজেপি কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা একটি সত্যতা যাচাইকারী কমিটি তৈরি করেন। যে কমিটিতে সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন পুলিশকর্তা তথা আইপিএস ভারতী ঘোষ, দলের বাকি ৩ সদস্যও প্রাক্তন আইপিএস অফিসার। উত্তরপ্রদেশে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজ্যসভার সাংসদ ব্রজলাল, মুম্বাইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার তথা সাংসদ সত্যপাল সিং, কর্ণাটকের প্রাক্তন আইজি কে সি রামামূর্তি। ২৪ মার্চ সুকান্ত, ভারতীরা বগটুই যান। এরপর বুধবার দিল্লিতে নাড্ডার বাসভবনে গিয়ে কমিটির সদস্য রিপোর্ট জমা দেন। রিপোর্ট সম্পর্কে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর সঙ্গে বিজেপির কি সম্পর্ক? আদালতের রায় থেকেই তো স্পষ্ট রাজ্যের মানুষের পুলিশের উপরে আস্থা নেই।”
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপির ওই রিপোর্টে অনুব্রতের নাম রয়েছে। সত্যি কি রয়েছে? সুকান্ত মজুমদার এর জবাবে বলেন, “আমরা রিপোর্টে কোনও আলাদা লাইন যোগ করিনি। গ্রামবাসীদের সঙ্গে আমাদের সদস্যদের যে কথা হয়েছে সেটাই রিপোর্টে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।”

