জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৪ জুন: কোভিড সংক্রামণের তৃতীয় ঢেউয়ের অশনি সঙ্কতে। আর তৃতীয় ঢেউ’য়ে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। আর তাই বাড়ির শিশু সন্তানদের সুরক্ষিত রাখার জন্য মানুষকে সচেতন করতে এবার পথে নামলেন কাঁকসার গৃহশিক্ষিকা ইশমাতারা। বৃহঃস্পতিবার কাঁকসার সিলামপুরে হাটে বাজারে সব্জি বিক্রেতা থেকে দোকানদার, পথচলতি মানুষকে মাস্ক বিলি করলেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবারের শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে পরামর্শ দিলেন।
প্রসঙ্গত, করোনা মহামারীর ভয়ঙ্কর থাবায় সিঁটিয়ে গোটা দেশ। দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় চলছে লকডাউন। কিছুক্ষেত্রে লকডাউন শিথিল হলেও তারমধ্যে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের অশনি সঙ্কেত দিয়েছে বিশ্বের তাবড় তাবড় চিকিৎসকরা। এমনকি তৃতীয় ঢেউ আরও ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ মহল। পশ্চিমবঙ্গে লকডাউনে কড়া নজরদারি অব্যাহত। একই সঙ্গে তৃতীয় ঢেউয়ের জন্য আগাম সতর্কতা নিয়েছে রাজ্য সরকার। তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় বিশেষ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য। শিশুদের সুস্থ রাখতে একগুচ্ছ পদক্ষেপও করেছে। ইতিমধ্যে বাড়ির মায়েদের ভ্যাকসিন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় ঢেউয়ের অশনি সঙ্কেত আসতেই সচেতনতায় নামল কাঁকসার সিলামপুরের ইশমাতারা খাতুন পেশায় গৃহশিক্ষিকা। টিউশনির পাশাপাশি সমাজসেবামুলক কাজ কর্ম করেন। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের সংক্রমণের সম্ভাবনার সঙ্কেত পেয়েই সচেতনতার বার্তা নিয়ে পথে নেমেছেন তিনি। সংক্রমণ রুখতে এদিন সিলামপুর সব্জি হাট ও বাজারে নিজের উদ্যোগে মাস্ক বিলি করেন তিনি। একই সঙ্গে শিশুদের সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেন পথচলতি মানুষকে। ইশমাতারার সঙ্গে ছিল তার দুই ছাত্রী সাহিদা খাতুন ও সুহানা মীর। ইশমাতারা খাতুন বলেন, “দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ’র অশনি সঙ্কেত চিকিৎসকরা দিয়েছে। তাতে শিশুদের সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেটা আগাম সতর্ক না হলে ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। আমিও এক মা। শিশুরা আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। তাই শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে পরিবারের লোকজনদের সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধিকে মানত্যা দিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। মাস্ক বিলির মাধ্যমে সাধারণ পথচলতি মানুষকে সচেতন ও সতর্ক করতে রাস্তায় নেমেছি। বহু মানুষকে দেখলাম মাস্ক পরেনি। অথচ সব্জি বাজারে উপচে পড়া ভিড়। তাই বাড়ির শিশুদের সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতে, করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছি। আজ প্রায় ৫০০ মাস্ক বিলি করেছি। আগামীদিনে এরকম আরও কর্মসূচি রয়েছে।”

পশ্চিম বর্ধমান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশ্বিনী কুমার মাজি বলেন, “জেলায় করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী। তবুও, দেশে তৃতীয় ঢেউয়ের সঙ্কেতে উদ্বিগ্ন। তাই, সমস্ত মানুষকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহার, হাত স্যানটাইজ করা। সামাজিক দুরত্ব বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় আসানসোল ও দুর্গাপুরের মতো দুটি শিল্পশহর রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে অন্ডাল বিমানবন্দর। স্বাভাবিকভাবেই তৃতীয় ঢেউ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলাবাসীর। পশ্চিম বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দফতর সুত্রে জানা গেছে, জেলায় কোভিড-১৯ পজেটিভিটির হার ১.২ শতাংশ। ডিসচার্জ হার ৯৮.৪ শতাংশ। মৃত্যুর হার ০.৬ শতাংশ।

