দামোদরের ভাঙ্গন থেকে  কাঁকসার সিলামপুরে শিবমন্দির প্রাঙ্গন বাঁচাতে বৃক্ষরোপন করল ইশমাতারা

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৪ জুলাই: দামোদরের গ্রাসের মুখে শশ্মান ও শিবমন্দির। আর সেই ভাঙ্গন রুখতে একমাত্র ভরসা গাছ। দামোদরের ভাঙ্গন ঠেকাতে শশ্মান ও মন্দির প্রাঙ্গনে অরণ্য সপ্তাহে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে বৃক্ষরোপন করল কাঁকসার গৃহ শিক্ষিকা ইশমাতারা খাতুন। চারাগাছ দিয়ে সহযোগিতা করেছে বনদফতর।

দামোদর নদের তীরে কাঁকসার সিলামপুরে প্রাচীন শিবমন্দির রয়েছে। মন্দির সংলগ্ন রয়েছে শশ্মান। মকর সংক্রান্তিতে ওই মন্দির প্রাঙ্গনে বাউল মেলা বসে। এছাড়াও বৈশাখ মাসে গাজন ও শ্রাবন মাসে শিবের মাথায় জল ঢালতে পুন্যার্থীদের ঢল নামে। গত কয়েকবছর ধরে জলস্রোতে দামোদরের পাড়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এবার গ্রাসের মুখে প্রাচীন ওই মন্দির প্রাঙ্গন। সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে প্রাচীন ওই শিবমন্দির প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি নেয় ইশমাতারা খাতুন। তার সঙ্গে ছিল তার তিন পড়ুয়া সুহানা মির, তামান্না মির ও সেখ মুবিন। এদিন সকালে মন্দিরের আশপাশে প্রায় ৫০ টির মত চারা গাছ রোপন করে। শ্রদ্ধার সঙ্গে আম, কাঁঠাল, আমলকি, হরিতকি, মেহগিনি অশোক গাছ লাগানো হয়। ইশমাতারা কর্মসূচিতে আপ্লুত হয়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আসেন প্রবীন নাগরিকরা। তার সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় প্রবীনরা। বৃক্ষরোপনের পর উপস্থিত সকলকে মিষ্টি মুখ করানো হয়। একই সঙ্গে এলাকার কিছু দুঃস্থ পরিবারে মেহগিনির মতো মূল্যবান গাছ বিতরণ করেন ইশমাতারা। গাছ বিতরণে দুঃস্থ পরিবারের ছেলে মেয়ের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার বার্তা দেন তিনি। মন্দির প্রাঙ্গনে ইশমাতারার গাছ লাগানোর উদ্যোগে খুশী বাসিন্দারা।

মন্দির কমিটির পক্ষে প্রদীপ্ত পাঁজা বলেন, “গত বছর একটা অশোক গাছ লাগিয়েছিলেন। এবছর মন্দির প্রাঙ্গনে যেভাবে উদ্যোগী হয়ে চারা গাছ লাগিয়েছেন আমরা খুবই খুশি। গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে যেভাবে গাছ বিতরণ করলেন তাতে সাধুবাদ জানাচ্ছি।”

ইশমাতারা খাতুন বলেন, “নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে পারে একমাত্র গাছ। দামোদর তীরবর্তী ওই শিবমন্দির প্রাঙ্গন সম্প্রীতির মেলবন্ধন। যেখানে মেলা বসে। গাজন হয়। নদী ভাঙ্গন থেকে পবিত্র ওই ভূমিকে বাঁচানো দরকার।
গাছের কোনো ধর্ম হয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে অক্সিজেন দেয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে ফল দেয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে ছায়া দেয় না। একটা গাছ থেকে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ উপকৃত হয়। হিংসা, বিবাদ নয় শান্তি বজায় থাকুক। সবুজ ধ্বংস করা চলবে না। আরও সহিষ্ণু হতে হবে। সুষ্ঠ, সুস্থ, দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ পরিবেশের জন্য বৃক্ষরোপন জরুরি। তাই অরণ্য সপ্তাহে সম্প্রীতির বার্তা দিতে বৃক্ষরোপন ও বৃক্ষ বিতরণ করলাম।”

তিনি বলেন, “একটা গাছ যখন ২০ বছর বয়স হবে, সেই গাছ বিক্রি করে ওই দুঃস্থ পরিবার তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার কাজে লাগাবে। উপকৃত হবেন তারা।” তিনি আরও বলেন, “বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে সম্প্রীতির মেলবন্ধনে গড়ে উঠুক সুস্থ সামাজিক পরিবেশ। বেঁচে থাকুক সবুজ অরণ্য। অটুট থাকুক সামাজিক সম্প্রীতির মেলবন্ধন। অরণ্য সপ্তাহে এটাই হোক সঙ্কল্প।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *