জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৪ জুলাই: গাছের কোনো ধর্ম হয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে অক্সিজেন দেয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে ফল দেয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে ছায়া দেয় না। আর তাই অরোণ্য সপ্তাহে সম্প্রীতির বার্তা দিতে বৃক্ষরোপন ও বৃক্ষ বিতরণ করল কাঁকসার গৃহ শিক্ষিকা ইশমাতারা খাতুন। চারাগাছ দিয়ে সহযোগিতা করেছে বনদফতর।
বৃহস্পতিবার কাঁকসার সিলামপুরে প্রাচীন শিবমন্দির প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি নেয় ইশমাতারা খাতুন। তার সঙ্গে ছিল তার তিন পড়ুয়া সুহানা মির, তামান্না মির ও সেখ মুবিন। এদিন সকালে মন্দিরের আশপাশে প্রায় ৫০ টির মত চারা গাছ রোপন করে। শ্রদ্ধার সঙ্গে আম, কাঁঠাল, আমলকি, হরিতকি, মেহগিনি অশোক গাছ লাগানো হয়। ইশমাতারার কর্মসূচিতে আপ্লুত হয়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আসেন প্রবীন নাগরিকরা। তার সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় প্রবীনরা। বৃক্ষরোপনের পর উপস্থিত সকলকে মিষ্টি মুখ করানো হয়। একই সঙ্গে এলাকার কিছু দুঃস্থ পরিবারে মেহগিনির মতো মূল্যবান গাছ বিতরণ করেন ইশমাতারা। গাছ বিতরণে দুঃস্থ পরিবারের ছেলে মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার বার্তা দেন তিনি। মন্দির প্রাঙ্গনে ইশমাতারার গাছ লাগানোর উদ্যোগে খুশী বাসিন্দারা।

মন্দির কমিটির পক্ষে প্রদীপ্ত পাঁজা বলেন, “গত বছর একটা অশোক গাছ লাগিয়েছিলেন। এবছর মন্দির প্রাঙ্গনে যেভাবে উদ্যোগী হয়ে চারা গাছ লাগিয়েছেন আমরা খুবই খুশী। গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে যেভাবে গাছ বিতরণ করলেন তাতে সাধুবাদ জানাচ্ছি।”
ইশমাতারা খাতুন বলেন, “গাছের কোনো ধর্ম হয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে অক্সিজেন দেয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে ফল দেয় না। গাছ কখনই ধর্ম দেখে ছায়া দেয় না। একটা গাছ থেকে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ উপকৃত হয়। হিংসা, বিবাদ নয় শান্তি বজায় থাকুক। সবুজ ধ্বংস করা চলবে না। আরও সহিষ্ণু হতে হবে। সুষ্ঠ, সুস্থ, দুষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সুস্থ পরিবেশের জন্য বৃক্ষরোপন জরুরি। তাই অরণ্য সপ্তাহে সম্প্রীতির বার্তা দিতে বৃক্ষরোপন ও বৃক্ষ বিতরন করলাম।” তিনি বলেন, “একটা গাছের যখন ২০ বছর বয়স হবে, সেই গাছ বিক্রি করে ওই দুঃস্থ পরিবার তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার কাজে লাগাবে। উপকৃত হবেন তারা।” তিনি আরও বলেন, “বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে সম্প্রীতির মেলবন্ধনে গড়ে উঠুক সুস্থ সামাজিক পরিবেশ। বেঁচে থাকুক সবুজ অরণ্য। অটুট থাকুক সামাজিক সম্প্রীতির মেলবন্ধন। অরণ্য সপ্তাহে এটাই হোক সঙ্কল্প।”

