জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৭ ফেব্রুয়ারি: প্রায় দু’বছর পর পাড়ায় শিক্ষালয় চালু হল। করোনার চোখরাঙানিকে উপেক্ষা আবারও খুশীর মেজাজে স্কুলমুখি পড়ুয়ারা। আর খুদে পড়ুয়াদের সুরক্ষায় এগিয়ে এল ইশমাতারা। বিভিন্ন স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের মাস্ক পরিয়ে, চকলেট দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন তিনি। নজিরবিহীন ঘটনার দৃষ্টান্ত রইল কাঁকসার সিলামপুরে। মাস্ক আর চকলেট পেয়ে খুশী খুদে পড়ুয়ারা।
ইশমাতারা খাতুন কাঁকসার সিলামপুরের বাসিন্দা। পেশায় গৃহশিক্ষিকা তিনি নিজের উদ্যোগে সমাজসেবামুলক কাজ করে থাকেন। করোনা আবহে হাটে বাজারে, বিভিন্ন গ্রামে মাস্ক বিলি করেছেন।
পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতার কাজ করেছেন। আবার অরণ্য সপ্তাহে স্থানীয় স্কুলে, মন্দির চত্বরে বৃক্ষরোপন করেছেন। দুঃস্থ পড়ুয়াদের ভবিষ্যত শিক্ষায় সহায়তায় মুল্যবান চারগাছ দিয়েছেন। এছাড়াও নানান সেবামুলক কাজ করে চলেছেন। কয়েকদিন আগে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফিরিয়ে দিয়ে সততার নজির রেখেছেন তিনি। কয়েকদিন আগে দুষ্কৃতিদের বাধা উপেক্ষা করে নিজের টিউশিনির পড়ুয়াদের নিয়ে নিয়ম মেনে প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করেছেন।

সোমবার প্রায় দু’বছর পর খুদে পড়ুয়দের উদ্দেশ্যে রাজ্যের প্রাথমিক স্কুল খুলল। করোনার দাপট এখনও যায়নি। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় মনযোগী করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাড়ায় পাড়ায় শিক্ষালয় চালু হয়েছে। কোথাও খোলা মাঠে পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। কেথায় মন্দিরের বারান্দায় শুরু হল পঠনপাঠন। নতুন উৎসাহে আবারও ক্লাসে পড়ুয়ারা। কার্যত আনন্দের মেজাজে পড়ুয়ারা। এদিন পাড়ায় শিক্ষালয় চালু হতেই কাঁকসার সিলামপুরে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এগিয়ে এলেন সমাজসেবিকা ইশমাতারা খাতুন। এলাকার দুটি শিক্ষালয়ে পঠনপাঠন শুরুর আগেই পড়ুয়াদের মাস্ক পরিয়ে দিলেন। চকলেট দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন পড়ুয়াদের। একইসঙ্গে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য সচেতনতার পাঠ দিলেন তিনি। ইশমাতারার সঙ্গে ছিল তার দুই পড়ুয়া সুহানা মীর ও সাহিদা খাতুন।

ইশমাতারা খাতুন বলেন, “করোনা দাপট এখনও রয়েছে। শিক্ষালয় চালু হলেও অবশ্যই পড়ুয়া ও তাদের অবিভাবককে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। দীর্ঘদিন পর স্কুল খুলেছে। খুব উৎসাহী পড়ুয়ারা। আনন্দের মেজাজে স্কুলে এসেছে। সচেতন থাকা দরকার। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ক্লাসে বসতে হবে। এই অবস্থায় অন্য কারও টিফিন, জল না খাওয়া। অন্য কারও ব্যাবহার করা মাস্ক না নেওয়া। বাড়ি গিয়ে হ্যান্ড ওয়াশ কিম্বা সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। বাড়িতে গিয়ে জামা, প্যান্ট খুলে হাত, মুখ ধুয়ে ঘরে ঢুকতে হবে। এসব নিয়ে সচেতন করেছি। এদিন দুটি স্কুলে পড়ুয়াদের মাস্ক দিয়েছি। চকলেট খাইয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। বহুদিন পর স্কুলে পড়ুয়াদের দেখে খুব খুশী।”
ইশমাতারা কাজে আপ্লুত সিলামপুর পুর্বপাড়া ও গাবতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা থেকে এলাকাবাসী। এদিন দুটি স্কুলের শিক্ষালয়ে ৫০ জনেরও বেশী করে পড়ুয়া এসেছিল। মাস্ক চকলেট পেয়ে খুশী পড়ুয়ারা। সিলামপুর গাবতলা এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফকির দাস সরকার ও পুর্ব পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা মিতা পাত্র রায় জানান, “ইশমাতারা কাজে খুশী এবং সাধুবাদ জানাই।”

