সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩ মে: ক্ষুদে স্মৃতিধর হিসাবে মাত্র দু’বছর এক মাস বয়সেই ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে নাম নথিভুক্ত করে বাঁকুড়া জেলার মুকুটে আরো একটি নতুন পালক যোগ করল মেজিয়ার ঈশিতা। এই খুশির খবরে সারা বাঁকুড়া জেলা খুশির জোয়ারে ভাসছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমনকি পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও বহু মানুষজন ঈশিতাকে দেখতে ও তার প্রতিভার সাক্ষী থাকতে তাদের বাড়িতে হাজির হচ্ছেন।
ঈশিতার বাবা হরিশংকর মাজি ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের কন্ট্রোল অ্যান্ড ইন্সট্রুমেন্টেশন বিভাগের একজন ইঞ্জিনিয়ার। মা শম্পাদেবী সাধারণ গৃহবধূ। দাদু নিতাই চন্দ্র মাজি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। হরিশংকর বাবুর আদি নিবাস বিদ্যুৎ প্রকল্প লাগোয়া চৈতন্যপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসনে থাকেন। তার দুই মেয়ে অস্মিতা ও ঈশিতা। অস্মিতা স্থানীয় ডিএভি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ঈশিতার বয়স এখন ২ বছর ২ মাস। এই বয়সেই সে রীতিমত নামকরা একজন সেলিব্রেটি হয়ে উঠেছে। ভালো করে কথা ফোটার আগেই ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে তার নাম নথিভুক্ত হয়েছে। ওর স্মৃতির প্রখরতা দেখে সমাজতাত্ত্বিকদেরও চক্ষু চড়ক গাছ। যে মেয়ে টলমল টলমল পায়ে সদ্য হাঁটতে শিখছে এবং অস্পষ্ট উচ্চারণে কথা বলছে সেই ঈশিতার ওষ্ঠাধারে ঝুলছে ১০১ টি দেশের রাজধানীর নাম, দেশের ২৯ টি রাজ্যের রাজধানী, দেশের জাতীয় সঙ্গীত সহ ১০ টি জাতীয় প্রতীক, বিভিন্ন পশু পাখি, যানবাহন, রং ইত্যাদি লহমার মধ্যে চিনে ফেলা। শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নাম, বাংলা শব্দের ইংরেজি নাম, সংখ্যা গণনা করা, সবই তার ঠোঁটস্থ। আশ্চর্যজনক ভাবে আবৃতি করছে বিভিন্ন লেখকের ইংরেজি ও বাংলা ছড়া ও কবিতা।
শম্পা মাজি বলেন, ও কিভাবে এত সব মনে রাখতে পারে সেটা আমি জানি না। ওর মস্তিষ্কের স্টোরে কিভাবে স্টক হচ্ছে তাও বলতে পারবো না। ওর যখন দেড় বছর বয়স তখন থেকে কথা বলতে শিখেছে। আধো আধো স্বরে উচ্চারণ করতো মা, বাবা দাদু-দিদা, ঠাম্মা এইসব শব্দ। আমার বড় মেয়ে যখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে তখন লকডাউনে স্কুল বন্ধ থাকায় আমি সময় পেলেই ওকে পড়াতে বসাতাম। রান্না করতে করতেও নানান প্রশ্ন উত্তর করতাম মা মেয়েতে। ঈশিতা তখন খেলনা পাতি নিয়ে দরজার গোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতো কিংবা পাশে এসে বসে খেলা করতো। নিজের মনে খেলতে খেলতেই আমাদের মা মেয়ের কথোপকথন হয়তো শুনতো এসব বিষয়ে আমি নজর করতাম না। তারপর বড় মেয়েকে যখন অন্য কোনো সময় পড়াশুনার রিপিট করাতাম সেই সময় বড় মেয়ে হয়তো কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারল না। হঠাৎ লক্ষ্য করলাম আপন-মনে সেই সব প্রশ্নের উত্তর ঈশিতা বলে দিচ্ছে। তারপর ওর সামনে যা বলি ও দু বার রিপিট করে। পরে যখন সেইসব জিজ্ঞাসা করি সব বলে দেয়। ডিসেম্বরে যখন ওর বয়স ১ বছর ১১ মাস তখনই ও মাত্র ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে ১০১ টি দেশের রাজধানী, ২৭ সেকেন্ডে দেশের ২৯ টি রাজ্যের রাজধানীর নাম বলে দিতে পারছে। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাম, ১ থেকে ২০ গণনা করা, নানান পশুপাখি, যানবাহন, সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন ছড়া ও কবিতা সব বলতে পারছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল ঈশিতার দু’বছর বয়সের পূর্তি অনুষ্ঠান। তখন বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন রেকর্ড বুকে নাম তোলার জন্য পরামর্শ দেন। তাদের কথা মতই ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে যোগাযোগ করি। ওরা ঈশিতার স্মৃতি শক্তির সবকিছুই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৮ এপ্রিল ওর নাম খুদে স্মৃতিধর হিসেবে নথিভুক্ত করে। গত সপ্তাহে আমাদের কাছে তার শংসাপত্র, উপহার, মেডেল এবং রেকর্ড বই সহ যাবতীয় নথি হাতে এসেছে। এবার গিনেস বুক অব রেকর্ডসে মেয়ের নাম উঠবে বলে আত্মবিশ্বাসী শম্পা দেবী।

