অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১৫ জুলাই: রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটূক্তি করার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে। তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। তিনি যে প্রশ্ন তুলেছেন তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তথাগতবাবু লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গ কি ধীরে ধীরে উত্তর কোরিয়ার বাম শাসিত সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে? তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে ফেসবুকে।
ফেসবুকে তথাগতবাবু লিখেছেন, “ব্রাত্য বসুকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটূক্তি করার অপরাধে জনৈক পার্থ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার ও তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের হুকুম হয়েছে। ব্রাত্য বসু সজ্জন মানুষ, কিন্তু এঁরা দাবাখেলার বোড়ে। দলের দেড়জন সর্বময় কর্ত্রী এবং কর্তার হুকুমে পশ্চিমবঙ্গ কি ধীরে ধীরে উত্তর কোরিয়াতে পরিণত হচ্ছে?“
পোস্ট করার পর ১৬ ঘন্টায় বৃহস্পতিবার সকালে লাইক, মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যা যথাক্রমে ১ হাজার ৩০০, ২১৩ ও ৭৮।
মন্যব্যে উৎপল ঘোষ লিখেছেন, “অনেকটাই তাই। যদি পশ্চিমবঙ্গ এক আলাদা রাষ্ট্র হতো তাহলে ঐ উত্তর কোরিয়াকে ছাড়িয়ে চলে যেত।“ নীলাদ্রি চক্রবর্তী লিখেছেন, “হচ্ছে” কি? হয়ে গেছে। বাংলা নিজের উত্তর কোরিয়া’কেই চায়।“ চিন্ময় দাস লিখেছেন, “পরিণত হচ্ছে না অনেক বছর আগেই উত্তর কোরিয়ায় পরিণত হয়ে গেছে।“
রামপ্রসাদ মুখার্জি লিখেছেন, “উনি এখন নিজেকে জিঙ্ পিঙজি ভাবছেন।“ সোমনাথ চৌধুরী লিখেছেন, “কিম, হিটলার এই দুই জন পুরুষ ছিল, আমাদের মাননীয়া নতুন ইতিহাস গড়বেন।“ প্রণব রাহা লিখেছেন, “কর্ত্রী যদি দেশের দায়িত্ব পান, তবে দেশটা তখন উত্তর কোরিয়াই হবে।“
অরিজিৎ দাসলিখেছেন, “না স্যার… আমি বেশ অনেকদিন আগেই নাম টা বলেছি… বাঙালিস্তান…. কি মনে হয় আপনার?“ শাশ্বত সরকার লিখেছেন, “ডিএসপি-র মেয়েকে উত্যক্ত করলে থানা আইটি আইনে কেস নেয় না অথচ এই বেলায় আইটি আইন কী করে লাগালো?“ অরূপ মিশ্র লিখেছেন, “প্রথমত যে কোনো হিন্দুকে যখনই মমতা সরকার কেস দেবে (তৃণমূল বিরোধী কথা বলার জন্য), তাকে আইনি সাপোর্ট দেওয়া হোক। আর ব্রাত্য বসু নিজেকে জ্যোতি বসু মনে করলেও সারা জীবন পদে থাকবেন না। কিন্তু কথা শেষের পরেও শুনতে হবে। জ্যোতি বসুর জন্ম ও মৃত্যুদিনে এখনো মানুষ তার বর্বর কাজের কথা মনে করে।“
রবীন্দ্রনাথ সরকার লিখেছেন, “অবশ্যই দাদা কিন্তু করার কি আছে যদি কিছু করার থাকে সেটা হচ্ছে এই সরকারকে, বরখাস্ত করা সেটা কি রাষ্ট্রপতি করতে পারেন? যদি পারেন তাহলে আর দেরি নয়।“
তরণী ঘোষলিখেছেন, “তাইতো , এদের কেউ কিছু বললে, নিজের পাওয়ার দেখাবে, আর একজন প্রধানমন্ত্রী কে অপদার্থ বলা লোক, তার আবার সন্মান কত।“
বিপরীত স্বরও যথেষ্ঠ। রূপান ঘোষাল লিখেছেন, “আজ তেলের দাম ও রান্নার দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর থেকে সাধারন জনগনের নজর ঘোরাতে আজ মিডিয়া ও সরকার উল্টোপাল্টা কথা বলে চলেছে। তাই ধর্ম নিয়ে এতো নাচানাচি, সব বুঝি মুখ্য শিক্ষিত একবারও কেন্দ্রীয় সরকারের মুখে শুনলাম না শিক্ষিত যুবক ও যুবতীদের কাজ দিতে হবে। নিয়োগ প্রায় 8 বছর বন্ধ। কেন্দ্র তাই নিয়ে কোনও কথা বলছে না। এই ভারতে বেকারত্ব নিয়ে তথাগতবাবু কবে পোস্ট করবেন এটাই দেখছি আমি।“
আবীর দাশগুপ্ত লিখেছেন, “আপনি ভুলভাল লিখে নিজেকে হাসির খোরাক করছেন।“ সোমনাথ মন্ডল লিখেছেন, “২ রা মে- র পর মানসিক ভারসাম্য যাঁরা হারিয়েছেন তাঁদের মধ্যে এই বুড়ো অন্যতম।“ জুবেইর আহমেদ মজুমদার লিখেছেন, “উত্তরপ্রদেশে তো এর চেয়ে হাজারগুণ বেশি সহিংসতা হচ্ছে। আপনাদের চোখ থাকলে দেখতে পেতেন।“

