আমাদের ভারত, ৩ জানুয়ারি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে জয় শ্রীরাম বলার পাল্টা হিসেবেই কী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে পাথর ছোড়া হয়েছে? টুইট করে এই প্রশ্নই তুলেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সুকান্ত ছাড়াও শুভেন্দু অধিকারী দিলীপ ঘোষ সহ একাধিক নেতা এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। দিলীপ ঘোষের কথায় রাষ্ট্র বিরোধীদের হাতে চলে গেছে বাংলা।
বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালুর দিন হাওড়া স্টেশনে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রতিবাদে মঞ্চে ওঠেননি সেদিন। এরপর সোমবার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি লিখেছেন, এই ঘটনা লজ্জাজনক। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে জয় শ্রীরাম বলার পাল্টা হিসেবেই কী বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে পাথর ছোড়া হয়েছে?
পাথর ছোড়ার ঘটনায় আগেই এনআইএ তদন্তের দাবি তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। টুইটারে শুভেন্দু লেখেন, “আমি পিএম ও ইন্ডিয়া ও রেলমন্ত্রকের কাছে আবেদন জানাবো এই ঘটনার তদন্ত এনআইএ’কে দিয়ে করানো হোক। দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক।
দিলীপ ঘোষ বলেন, কাশ্মীর শুধরে গেলেও বাংলা ধীরে ধীরে কাশ্মীর হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র বিরোধী শক্তি এখানে সক্রিয় আর তাদেরকে সরকার মদত দিচ্ছে। সিআইএর বিরোধীতায় অনেক জায়গায় অনেক আন্দোলন হলেও পশ্চিমবঙ্গে উৎপাত হয়েছিল। আড়াইশো কোটি টাকার ভারতের সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। ভারতের সম্পত্তিকে যারা শত্রুর সম্পত্তি মনে করছে তারা টিএমসির লোক। নুপূর শর্মার ঘটনাতেও এটা হয়েছে। মন্দিরেও ইট পাটকেল মারা হয়েছে।দেশবিরোধী শক্তির হাতে বাংলা চলে যাচ্ছে।
অন্যদিকে এই ঘটনায় তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও একটি টুইট করেছেন। তিনি এই ঘটনায় ষড়যন্ত্রের সন্দেহ করেছেন। তিনি লিখেছেন, কারা বন্দে ভারতের ক্ষতি করল তার যথাযথ তদন্ত হওয়া দরকার। পাথর ছোড়ার তীব্র নিন্দা করছে তৃণমূল। কলকাতা পৌরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘটনার নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, বন্দে ভারত ট্রেনের উপর যা হয়েছে তা অত্যন্ত অন্যায়। জাতীয় সম্পত্তি নষ্ট করা ইট মারা আমরা সমর্থন করি না। যারা করেছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সোমবার মালদহের শামসের কুমারগঞ্জ স্টেশনের কাছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে ঢিল ছড়ার ঘটনা ঘটে, একটি কোচের কাঁচের দরজা ভেঙ্গে যায়। ঘটনায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। রেল মন্ত্রকের কাছে রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে। সেমি হাইস্পিড এই ট্রেনের নিরাপত্তার স্বার্থে কি কি করা প্রয়োজন তার উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। এনজিপি থেকে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস যখন হাওড়ার দিকে যাচ্ছিল তখনই এই ঘটনা ঘটে।

