বাতিল হওয়া কৃষি আইন ফিরছে? সুপ্রিম কোর্ট গঠিত কমিটির রিপোর্টে কোন ইঙ্গিত

আমাদের ভারত, ২২ মার্চ: গত বছর নভেম্বর মাসে তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কথা মতো সংসদে বিল এনে আইন বাতিলও করা হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট নিয়োজিত কমিটির কাছে দেশের বেশিরভাগ কৃষক সংগঠন ওই তিনটি আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তারা বলেছে আইনগুলি ফিরিয়ে আনা হোক।

গতবছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের কথা ঘোষণার সময় বলেছিলেন, সরকার কৃষকদের ভালোর জন্যই এই তিনটি আইন চালু করেছিল কিন্তু কৃষকরা যখন চাইছেন না তখন সরকার আইনগুলি ফিরিয়ে নিচ্ছে। তাই এখন সুপ্রিম কোর্ট নিয়োজিত কমিটির বক্তব্য সামনে আসার পর সরকার কী পদক্ষেপ করে সেটাও দেখার।

সুপ্রিম কোর্ট গত বছর কৃষি আইন বিরোধী আন্দোলনের সময় একটি মামলায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটিকে বলা হয় এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট দিতে। গত ১৯ মার্চ শনিবার সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট জমা পড়ে। সোমবার কমিটির সদস্য কৃষক নেতা অনিল ঘনওয়াট বলেন, “ইতিমধ্যেই সরকার ওই তিনটি আইন বাতিল ঘোষণা করেছে। তাই আলোচ্য তিন আইন নিয়ে আমরা কোনো জোরালো সুপারিশ করিনি। তবে বেশিরভাগ কৃষক সংগঠন আইনের পক্ষে সায় দিয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় কমিটির কাছে আন্দোলনে শামিল হওয়া কৃষক সংগঠনগুলি তাদের মতামত জানায়নি।”

জানা গেছে, একাধিকবার তাদের অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা জানিয়েছে সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক তারা যা বলার বলেছেন এবং প্রয়োজন পড়লে আবারও তারা বলবেন। বাম দলগুলোর বড় কৃষক সংগঠন রয়েছে, তারাও কমিটির কাছে মতামত দেয়নি। অন্যদিকে রিপোর্টের নির্যাস ঘোষণার সময় কমিটির দুই সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। তারা দুজনেই কৃষি অর্থনীতির শিক্ষক। কমিটির কাছে ২৬৬টি কৃষক সংগঠন তাদের মতামত দিয়েছে। এছাড়া মতামত জানানোর জন্য তৈরি অ্যাপে ১৯ হাজার মানুষ মতামত দিয়েছেন। মেইল করে মতামত দিয়েছেন আরও দেড় হাজার মানুষ। কমিটি জানিয়েছে ২৬৬ টি কৃষক সংগঠনের মধ্যে তারা ৭৩ জনের সঙ্গে মুখোমুখি বসে তাদের বক্তব্য শুনেছেন। তার মধ্যে‌ ৬১টি কৃষক সংগঠন বাতিল হয়ে যাওয়া তিন কৃষি আইন ফেরানোর পক্ষে মত দিয়েছে।

এই কৃষক সংগঠনগুলির সদস্য সংখ্যা তিন কোটির কিছু বেশি। যদিও দেশের মোট কৃষকের তুলনায় এই সংখ্যা কিছুই নয়। ৭৩টির মধ্যে বাকি থাকা বেশিরভাগই তিন কৃষি আইনের সংশোধন চেয়েছে। আইন পুরোপুরি বাতিল হোক তারা চাননি। যে সংগঠনগুলির সঙ্গে মুখোমুখি কথা হয়নি তাদের বেশির ভাগই কৃষি আইনের পক্ষে অভিমত রয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *