সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৭ মার্চ: বনধের বিরোধিতা করে পুরুলিয়ায় কল কারখানা সচল রাখতে তৎপর হয়েছে আইএনটিটিইউসি। আজ তৃণমূলের এই শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “যে জেলায় সচল থাকবে কল কারখানা। কর্মনাশা বনধ’কে সমর্থন করে না তৃণমূল। সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনই কল কারখানার প্রবেশ পথে সংগঠনের নেতৃত্বরা জমায়েত করে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়াবেন। তা কার্যকর করার জন্য বিভিন্ন শাখা সংগঠনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তৃণমূল জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, “বনধ বিরোধী মিছিল না করলেও পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে যে, জোর করে যাতে দোকান পাট, হাট বাজার না বন্ধ করে। মানুষ যাতে কর্ম মুখর থাকে সেই বিষয়টি আমরা নজরে রাখব।”
আগামী সোমবার ও মঙ্গলবার দেশজুড়ে বনধের ডাক দেয় সেন্ট্রাল ট্রেড ইউনিয়নের যুগ্ম ফোরাম। কেন্দ্রের একাধিক নীতির কারণে সরকারি কর্মচারীরা যে চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন, তার বিরোধিতা করেই এই বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত ব্যাঙ্কিং সেক্টর এই বনধে যোগ দেবে। অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের সমস্ত ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলিও এই বনধে অংশ নেবে। কেন্দ্রের তরফে যে ব্যাঙ্কিং আইন (সংশোধনী) বিল ২০২১ আনা হয়েছে এবং ব্যাঙ্কগুলির বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তার বিরোধিতা করতেই তারাও বনধে সামিল হবেন। ফলে সপ্তাহের শুরুতেই সাধারণ মানুষকে পড়তে হবে চরম সমস্যায়।
কেন্দ্রের কৃষক বিরোধী, শ্রমিক বিরোধী ও জনবিরোধী নীতির বিরোধিতা করেই এই বনধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান পুরুলিয়া জেলা সিপিএমের সম্পাদক প্রদীপ রায়। তিনি জানান, “কাল সকাল থেকেই রাস্তায় বনধের পক্ষে মিছিল হবে জেলাজুড়ে।”
শুধু ব্যাঙ্কই নয়, কয়লা, স্টিল, তেল, তামা, টেলিকম, পোস্টাল, আয়কর ও বীমা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এই বনধে অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে।

