রাজেন রায়, কলকাতা, ১৮ আগস্ট: প্রশাসনিক বৈঠকের সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম চিত্র দেখলেন এবার মন্ত্রীরা। বরাবর কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে দোষারোপ করে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবার আচমকাই মুখ্যমন্ত্রীর তোপের মুখে পড়তে হল তাঁরই মন্ত্রিসভার ৩ মন্ত্রীকে। বুধবার প্রশাসনিক বৈঠকে সৌমেন মহাপাত্র, মলয় ঘটক ও অরূপ রায়কে সকলের সামনে মারাত্মক ভাবে তিরস্কার করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বুধবার সচিবালয়ে প্রথমবার প্রশাসনিক বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই বুঝিয়ে দেন, দুর্নীতির বিষয়েও যে তিনি এ বার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চলেছেন। প্রথমেই ছিলেন সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। যস ও ইদানীং অতিবৃষ্টির জেরে বন্যায় রাজ্যের বাঁধগুলি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই নিয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে তাঁকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে দিল্লিতে দরবার করতে বলেছিলেন মমতা। কিন্তু সূত্রের খবর, সৌমেন তাতে কর্ণপাত করেননি। যা নিয়ে বুধবার মারাত্মক ক্ষোভপ্রকাশ করেন মমতা। তিনি বলেন, “১০ দিন আগে তোমাকে বলেছিলাম দিল্লিতে যেতে। কেন যাওনি?”
এর পরেই নেত্রীর নজর যায় সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়ের দিকে। সমবায় ব্যাঙ্কে অডিট না হওয়া নিয়ে তাঁকে দু-কথা শুনিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের অডিট কেন হচ্ছে না? স্পেশাল অডিট করতে গেলেও কি হাইকোর্টের অনুমতি প্রয়োজন?” প্রশ্ন শুনে চুপ করে যান অরূপবাবু।
শেষে রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটককে বকাঝকা করেন মমতা। সূত্রের খবর, হাইকোর্টে একটি জুডিশিয়াল মিউজিয়াম তৈরি করার কথা ছিল। কিন্তু সেই মিউজিয়াম তৈরিতে গড়িমসি নিয়ে মলয়কে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দলের নেতা হোক বা প্রশাসনিক কর্তা, বালিচুরি এবং কয়লা চুরির মতো ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না।

