পিন্টু কুন্ডু , বালুরঘাট, ৭ জুন: বাংলাদেশের এক্সপোর্টারদের নিয়মিত ফতোয়ার জেরে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হতে বসেছে ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। বাংলাদেশের তরফে আজব চিঠি পেতেই রবিবার একটি জরুরী বৈঠকে বসে হিলি এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন। বাংলাদেশের দাবি, কোভিড পরিস্থিতিতে সমস্ত ট্রাক চালক ও সহযোগীদের টিকাকরণ না হলে তাদের ওদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন এদেশের হিলি এক্সপোর্টাররা।
হিলির রপ্তানিকারকদের দাবি, প্রতিদিন বাংলাদেশ নতুন নতুন নিয়ম সামনে আনছে। আগে প্রতিদিন ২০০ টি করে গাড়ি ওপারে গেলেও এখন বলা হচ্ছে মাত্র ৮০ টি করে গাড়ি যেতে পারবে। শুধু তাই নয়, নতুন ফতোয়া জারি করে সেই সংখ্যা ৫০ নিয়ে আসা হয়েছে। রাজ্যের অন্য আন্তর্জাতিক বানিজ্য কেন্দ্রগুলিতে এমন অসুবিধার সৃষ্টি না হলেও এখানে ইচ্ছে করেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করছেন বাংলাদেশের এক্সপোর্টাররা বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
রবিবার নতুন করে চিঠি দিয়ে জানানো হয় ৮০টি নয় প্রতিদিন ৫০ টি করে গাড়ি নেওয়া হবে। যার পরেই ক্ষিপ্ত হয়ে যান হিলির ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যরা। সংগঠনের দাবি, বাংলাদেশী এই ফতোয়ায় পতিরাম থেকে হিলি পর্যন্ত প্রায় ১১০০ মালবোঝাই গাড়ির লম্বা লাইন পড়েছে। রাস্তায় পচে নষ্ট হচ্ছে অনেক পন্যসামগ্রী। শুধু তাই নয়, এমনভাবে মাসের পর মাস গাড়ি দাড়িয়ে থাকায় চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রত্যেক ব্যবসায়ী। এমনটা চলতে থাকলে চরম ক্ষতির মুখে পড়বে তাদের ব্যবসা। তাই আগের হিসাব মতো সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত রপ্তানী চালু রাখা সহ বাংলাদেশের একক সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া অসম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে ব্যবসায়ীদের বৈঠকে।

হিলি এক্সপোর্ট এসোসিয়েশনের সদস্য তথা ব্যবসায়ী অমিত আগরওয়ালা জানিয়েছেন, বাংলাদেশী ফতোয়ায় তাদের প্রচুর গাড়ি রাস্তায় আটকে রয়েছে। নষ্ট হচ্ছে পন্যসামগ্রী। এমনটা চলতে থাকলে আগামী ৯ তারিখ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বনধ করতে বাধ্য হবেন।
হিলি এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক ধীরাজ অধিকারি জানিয়েছেন, তারা মিটিং করে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশকে। আলোচনা চলছে। সমাধান না হলে বনধের পথে নামতে বাধ্য হবেন।

