অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম,২০ আগস্ট: রাতভর টানা বৃষ্টি আর সাথে ঝোড়ো হাওয়ায় কারণে জলস্তর বাড়ল একাধিক নদীর। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রামের সাথে শহরের।
অন্যদিকে প্রবল ঝড়ে গাছ ভেঙ্গে পড়েছে একাধিক, মাটির বাড়ি ভেঙ্গেছে বেশ কিছু জায়গায়। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে টানা মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বইতে থাকে ঝোড়ো হাওয়া। তার জেরে জেলার বিভিন্ন ব্লকে গাছ পড়ে গ্রামীন ও পিচ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় দীর্ঘ সময়। শনিবার সকালে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হলে স্থানীয় মানুষজন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছগুলিকে সরিয়ে দেওয়া হলে যাতায়াত স্বাভাবিক হয়। তার পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের উপর গাছ পড়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় এদিন সকাল থেকে মানুষজন পাম্প থেকে পানীয় জল তুলতে না পারায় সমস্যা পড়েন।

এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের জেরে শনিবার সকাল থেকে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন নদীগুলির জলস্তর বাড়তে শুরু করে। এদিন জামবনীর চিল্কীগড়ে ডুলুং নদীর কজওয়ের উপর জল উঠে যাওয়ায় গিধনী, চিঁচিড়া, শালমারা, ঘুটিয়া সহ বিভিন্ন গ্রামের সাথে জেলা শহর ঝাড়গ্রামের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডুলুং নদীর কজওয়ের উপর দিয়ে যাতায়াত করছেন।

অন্যদিকে গোপীবল্লভপুরের ৯ নম্বর রাজ্য সড়কের তপশিয়াতে কাঁখুয়া খালের জল কজওয়ের উপর উঠে যাওয়ায় ফেঁকো, গোপীবল্লভপুর পিচ রাস্তায় যোগাযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে আলামপুর খালের জল বেড়ে যাওয়ায় গোপীবল্লভপুরের সাথে আলামপুর সহ সাতটি গ্রামের যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খালে জল উঠে যাওয়ার ফলে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার ঘুর পথে গোপীবল্লভপুর বাজারে আসতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। জল বেড়ে যাওয়ায় কারণে কয়েকশো বিঘা ধান চাষ ও সবজি চাষের জমি এখন জলের তলায়। এছাড়াও কালনাগিনী খালের জল বেড়ে যাওয়ায় বালিদাঁড়িয়া, শুকাআমড়াশোলে কয়েশো বিঘা জমির ধান, আবার শান্তরঙ্গী বাঁধের জল বেড়ে যাওয়ায় নয়াবসান মৌজার কয়েক বিঘা জমি জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে।
গোপীবল্লভপুর বিডিও অফিসের সামনের রাস্তায় গাছ ভেঙ্গে পড়ায় এবং ডুলুং নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় গোপীবল্লভপুরের বেশ কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ।এছাড়াও জেলার বিভিন্ন ব্লক ও পুরসভা এলাকায় বেশ কিছু মাটির বাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডে সাত আটটি মাটির ঘরের দেওয়াল ভেঙ্গে পড়ে। কোথাও গাছ পড়ে ঘর ভেঙ্গেছে।

এবিষয়ে ঝাড়্গ্রামের মহকুমা শাসক বাবুলাল মাহাতো বলেন, “বেশ কিছু মাটির বাড়ি ভেঙ্গে পড়ার খবর পেয়েছি। বেশ কিছু গাছ ভেঙ্গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন ব্লক থেকে রিপোর্ট এসে পৌছায়নি। রাস্তার উপর ভেঙ্গে পড়া গাছ সরানো হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য তৈরি রয়েছে প্রশাসন।

