জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৮ সেপ্টম্বর: গত কয়েকদিন ধরে শিল্পশহরে অভিনব কায়দায় কেপমারি ও প্রতারনার অভিযোগ উঠছিল। কমিশনারেট পুলিশের তৎপরতায় ধরা পড়ল আন্তরাজ্য কেপমারি ও প্রতারনা চক্র। বুধবার বেনাচিতির একটি হোটেল থেকে ওই চারজন কেপমার ধরা পড়ে। উদ্ধার হয়েছে টাকাসহ মোবাইল, ব্রেসলেট। ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, ধৃতদের নাম, অনিল চৌহান, অনিল সিং, মুকেশ চৌহান ও সন্দীপ চৌহান। ধৃতরা সকলেই মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা। ধৃতদের কাছ থেকে চারটি মোটর বাইক, রুপোর একাধিক বেসলেট, ৮ টি মোবাইল ও নগদ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের জামিন খারিজ করে দেন।
ঘটনায় জানাগেছে, গত কয়েকদিন ধরে আসানসোল ও দুর্গাপুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিনব কায়দায় কেপমারির অভিযোগ উঠছিল। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গোপনসুত্রে খবর পেয়ে বুধবার দুর্গাপুরের একটি হোটেল থেকে অনিল চৌহান, অনিল সিং, মুকেশ চৌহান ও সন্দীপ চৌহান নামে চারজনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা সহ মোবাইল, বেসলেট উদ্ধার করে। তবে মোবাইলগুলি দেখতে নতুন এবং দামী কেম্পানীর মনে হলেও ভেতরে সবই নকল যন্ত্রপাতি। প্রশ্ন, কিভাবে কেপমারি করত।
জানাগেছে, ধৃতরা পুজোর আগে থাবা বসাতে এরাজ্যে এসেছে। সঙ্গে তাদের মেটর বাইকও নিয়ে এসেছে। দুর্গাপুর থেকে আসানসোল, ধানবাদ পর্যন্ত অপরাধ সংগঠিত করার লক্ষ্যে ছিল। বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওইসব চকচকে নামী কোম্পানীর মোড়ক লাগানো মোবাইল বিক্রি, কিম্বা রুপোর ব্রেসলেট বিক্রির নামে গৃহস্থ কিম্বা হাটে বাজারে বিভিন্ন মানুষের কাছে সুকৌশলে কেপমারি করাই ছিল এদের কাজ। পুজোর আগে তাদের সমস্ত পরিকল্পনা বানচাল হয়। কমিশনারেট পুলিশের জালে ধরা পড়ে আন্তঃরাজ্য কেপমারির ওই চক্র।
ডিসি অভিষেক গুপ্তা জানান, “আদালতে ধৃতদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”

