পার্থ খাঁড়া, মেদিনীপুর, ১৭ এপ্রিল: ঘাটালের সাহেবঘাটে বিনাব্যায়ে শিলাবতী নদী পারাপারের বন্দোবস্ত করার দাবিতে আন্দোলনে নামল ‘সাহেবঘাট ব্রিজ নির্মাণ সংগ্রাম কমিটি’। সাহেবঘাটে শীলাবতী নদীর উপর কংক্রিটের ব্রিজ তৈরির দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই তারা আন্দোলন করে আসছে। এবার তাদের দাবি, যতদিন ব্রিজ না হচ্ছে ততদিন সরকারি উদ্যোগে বিনাব্যয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করতে হবে।
২০১৪ সাল থেকে সাহেবঘটে স্থানীয় কয়েকজন একটি কাঠের ব্রিজ করে যাতায়াতের জন্য টোল ট্যাক্স আদায় করছে। ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির থেকে ১০ বছরের জন্য মাত্র ৫০ হাজার টাকায় লিজ নিয়েছে। যার মেয়াদ আর মাত্র তিন মাস পর জুলাই মাসে শেষ হচ্ছে। কিন্তু তার আগে হঠাৎ ওই ব্যক্তিরা এককালীন সারা বছরের টোল ট্যাক্স আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ওই কাঠের সেতু দিয়ে রোজ ঘাটাল এবং দাসপুর-১ ব্লকের প্রায় ৫০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ সাইকেল, মোটরসাইকেল সহ যাতায়াত করেন। এছাড়া স্থানীয় কালিচক বাড়গোবিন্দ দেশপ্রাণ হাইস্কুল, সুরতপুর শ্রীঅরবিন্দ শতবার্ষিকী বিদ্যামন্দির, মহারাজপুর হাইস্কুল, চৌকা নেতাজী বিদ্যামন্দির সহ বেশ কয়েকটি প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত ওই কাঠের ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করে।
এককালীন টোল ট্যাক্সের প্রতিবাদে আজ সাহেবঘাট ব্রিজ নির্মাণ সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে কালিচক বাড়গোবিন্দ দেশপ্রাণ হাইস্কুলে একটি সভা হয়। সভায় আশেপাশের প্রায় কুড়িটি গ্রামের শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জুলাই মাসের পর সরকারি পরিচালনায় বিনাব্যয়ে পারাপারের বন্দোবস্ত করতে হবে। এছাড়া কোনওভাবেই এখন বাৎসরিক টোল ট্যাক্স আদায় করা চলবে না।

কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কানাই লাল পাখিরা জানান, এই দাবিতে ২৭ এপ্রিল ঘাটালের বিডিও ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির কাছে গণডেপুটেশনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির উপদেষ্টা নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, সভাপতি বিকাশ চন্দ্র হাজরা, যুগ্ম সম্পাদক কানাই লাল পাখিরা ও ঝাড়েশ্বর মাজী প্রমূখ।

