আমাদের ভারত, ১২ ফেব্রুয়ারি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার অভিযোগে উঠল। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় লাইনগুলি ঠিকঠাক গাওয়া হয়নি। তব শুভ নামে জাগে লাইনটি বাদ দিয়ে তব শুভ আশিষ মাগে লাইনটি দুবার গাওয়া হয়েছে। এককথায় ভুল জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়েছে তৃণমূলের জনসভায়। এই ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারে। সেখানে তৃণমূলের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকাকালীন জনসভার মঞ্চে ভুল জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়েছে। সেই ভিডিওর একটি অংশ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে সেই ভিডিওটি পোস্ট করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সরব হয়েছেন। ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে রাজ্য বিজেপির তরফেও।
সুকান্ত মজুমদার ভিডিওর অংশটি পোস্ট করে লিখেছেন, এটা কি হচ্ছে অভিষক? আপনি জাতীয় সঙ্গীতকেও সম্মান দিতে পারেন না? ঠিক করে গাইতে পারেন না? জাতীয় সঙ্গীত ভুল করে গাওয়ার অর্থ তার প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা। লজ্জার বিষয়। এরপর আজ মেদিনীপুরের সভা থেকেও এই বিষয়ে সরব হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, অভিষেক এইট পাশ কিনা তাও খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ ক্লাস ফাইভে পড়া ছেলেও জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারেন। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন না।
কোচবিহারের সভায় ভুল জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে এক হাত নিয়েছেন বঙ্গ বিজেপিও। তারাও ভিডিওটি পোস্ট করে লিখেছে, আরো একবার তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় সঙ্গীত ভুল গেয়ে দেশের অপমান করল। এই দলটি জুলুমবাজি, নির্যাতন, অত্যাচার এবং ভয় দেখিয়ে শাসন করে। তারা কখনো ভারতের জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান করতে পারে না। তৃণমূল বাংলার লজ্জা।
এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল সুপ্রিমো মুম্বাইয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে বিদ্যজনেদের একটি সভার শেষে তার বিরুদ্ধে জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার অভিযোগ ওঠে। জাতীয় সঙ্গীত শুরু হবার সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বসেছিলেন পরে উঠে দাঁড়ান। আবার জাতীয় সঙ্গীত শেষ হওয়ার আগেই সভা থেকে বেরিয়ে যান। এই অভিযোগ করে মামলাও করেছিলেন বিজেপি নেতা বিবেকানন্দ গুপ্তা। এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালত সমনও পাঠিয়েছিল। যদিও পরে সে সমন খারিজ হয়ে যায়। এবার অভিষেকের সভাতেও জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার অভিযোগ উঠল।

