“ছুটির বদলে বিকল্প ভাবনা কেন তৃণমূল সরকারের নেই?” স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তে সরব বিজেপি কংগ্রেস সিপিএম

আমাদের ভারত, ১৬ এপ্রিল: তাপ-প্রবাহের জন্য সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত স্কুলে ছুটি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম সহ বিরোধীরা। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্তে মিড ডে মিল চুরির সম্ভাবনা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস বলেছে বিকল্প ভাবনা ভাবা উচিত ছিল, সিপিএমের মতে পঠনপাঠনে খারাপ প্রভাব পরার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও তৃণমূল বিরোধীদের ভাবনাকে বাস্তব জ্ঞান শূন্য বলে দাবি করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সোমবার থেকে সরকারি বেসরকারি স্কুলের ছুটি ঘোষণা করতে বলেছি। মানুষের স্বার্থে একটা ব্যবস্থা করতে হবে না? সোম থেকে শনি সব সরকারি এবং বেসরকারি স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আবেদন করছি ছুটি দিতে। সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।

বিরোধী দলনেতা এর পরেই বলেন, এই ছুটির ঘোষণা আসলে মিড ডে মিল চুরি করার জন্য করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি ধরা পড়েছে। আরো টাকা কামাতে চায়। এই ঘোষণায় যেসব স্কুলে প্রাতঃকালীন বিভাগ রয়েছে সেগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যেনতেন প্রকারে স্কুলগুলি বন্ধ করে মিড ডে মিলের চাল চুরির বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ছুটি দিয়ে স্কুলে পঠন পাঠন বন্ধ করে দেওয়া কোনো কাজের কথা নয়। সেক্ষেত্রে স্কুলগুলিকে সকালের দিকে করে দিলেই ছাত্র-ছাত্রীদের পঠন পাঠন বন্ধ হতো না। বিকল্প পথে পঠন পাঠন চালু রাখাই সরকারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু শিক্ষার চেয়ে চুরি রাজ্য সরকারের কাছে বেশি প্রাধান্য পায়।

এর আগে গরমের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে, ২৪ মে এর বদলে ২ মে থেকে গরমে ছুটি পড়বে। ছুটির সংখ্যা বাড়ার ফলে পড়ুয়াদের স্কুলে পড়াশোনার সময় কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ছুটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দুপুরের বদলে সকাল বা সন্ধ্যায় স্কুল করা যেতেই পারতো। বিকল্প না ভেবে স্কুলগুলি বন্ধ রাখার কোনো মানেই হয় না। বিকল্প পঠন-পাঠনে জোর দেওয়া জরুরি। তা না করে মুখ্যমন্ত্রী ছুটি দিয়ে দিলেন।

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, এমনিতেই তো গরমের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে, তার উপর আরো এক সপ্তাহ ছুটি হয়ে গেল। এই ছুটির ফলে পড়াশোনায় যে ঘাটতি তৈরি হবে তার দায়িত্ব কে নেবে? তিনি আরো বলেন, গত দশ বছরে শহরে সবুজ কমেছে ৩০ শতাংশ তাই গরম যে বাড়বে সেটা স্বাভাবিক। সরকারের বিকল্প ভাবনা রাখা উচিত ছিল।

যদিও তৃণমূল বিরোধীদের এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। সাংসদ শান্তনু সেন বলেছেন, বিরোধীদের বাস্তব বুদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে। তার কথায়, বাস্তব বুদ্ধিহীন বিবেচনাহীন বিরোধীরা এই জবাব যথা সময় পেয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *