পিন্টু কুন্ডু , বালুরঘাট, ২৩ জুন: প্রতারককে গোপন সংখ্যা না দিয়েও ব্যাঙ্কের একাউন্ট থেকে উধাও গচ্ছিত টাকা। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে টাকা ফেরত চেয়ে ব্যাঙ্কের দ্বারস্থ হয়ে হয়রান গ্রাহক। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমনই অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন সুমন কর্মকার নামের এক গ্রাহক। এমন ঘটনায় রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের জাখিরপুরের বাসিন্দা সুমন কর্মকার। পেশায় একজন ব্যবসায়ী হবার সুবাদে বালুরঘাটের রথতলা এলাকার ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। তার দাবি, গত বছর তাঁর একাউন্ট থেকে আচমকা উধাও হয়ে যায় ৩১ হাজার টাকা। কোনও প্রকার ওটিপি বা গোপন তথ্য প্রতারককে না দিয়েও কিভাবে ব্যাঙ্ক একাউন্ট থেকে তাঁর টাকা গায়েব হলো তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি। ঘটনার সমাধান চেয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে একাধিকবার ঐ ব্যাঙ্কে গিয়ে যোগাযোগ করলেও তেমন সুরাহা পাননি সুমন কর্মকার নামে ওই গ্রাহক। উল্টে ব্যাঙ্কের এক কর্মী তাঁকে পর্যায়ক্রমে মোট ৬ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়ে দায় সারার চেষ্টাও করেন বলে অভিযোগ।
কোনও প্রতারকের হাতে প্রতারিত না হবার পরেও কেন দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রাহকের টাকা গায়েব হয়ে রয়েছে সে প্রশ্ন উঠবার পাশাপাশি ব্যাঙ্কের ওই কর্মীই বা কেন তাকে গোপন ভাবে টাকা ফেরত দিতে চাইছে সে প্রশ্নও জোড়ালো হয়ে উঠেছে। তবে কি ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ভেতরেই কোনও অসাধু চক্র কাজ করছে? যারা গ্রামের গরিব মানুষের একাউন্ট থেকে টাকা গায়েব করছেন। যদিও সুমন কর্মকার নামে কুমারগঞ্জের ওই বাসিন্দা এখন ওই ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য বছর কয়েক আগেও বালুরঘাট শহরের রথতলা এলাকার ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এক কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রাহককে আর্থিক প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছিল। পুনরায় এমন ঘটনা চাউড় হতেই রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকেই।
ঘটনা প্রসঙ্গে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের বালুরঘাট শাখার ম্যানেজার কৌশিক মুখার্জি বলেন এমন কোনও অভিযোগ তিনি পাননি, অভিযোগ না পেলে কিছু বলতে পারবেন না।
সুমন কর্মকার নামে ব্যাঙ্কের ওই গ্রাহক বলেন, তার কোনও লোন একাউন্ট নেই। তিনি কাউকে ওটিপিও শেয়ার করেননি। কিন্তু আচমকা তার একাউন্ট থেকে ৩১ হাজার টাকা গায়েব হয়ে যায়। ঘটনা নিয়ে গত দেড় বছরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে। তারপরে ব্যাঙ্কের এক কর্মী কয়েক দফায় ছয় হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। ব্যাঙ্কের ভেতরেই কোন প্রতারক চক্র রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

