আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২১ ফেব্রু়য়ারি, ২১ ফেব্রুয়ারি: উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার জন্য তৈরি বড় গেটে দলীয় নেতা ও বিধায়ক সুনীল সিং, ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ছবিতে কালি লাগানো নিয়ে উত্তেজনা। এই তোরণগুলি রয়েছে ব্যারাকপুর কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উপর।
বিজেপির অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে কালি লাগিয়ে তোরণ নষ্ট করেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। গোটা ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে টিটাগড় থানার অন্তর্গত ব্যারাকপুর কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের কুন্ডু বাড়ি মোড় এলাকায়। বিজেপির ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি করে টিটাগড থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনার পর নোয়াপাড়ার বিজেপি কর্মীরা কুন্ডুবাড়ি মোড় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছান নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক সুনীল সিং। তিনি বলেন, “তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি নেই, তাই এসব করছে। আমাদের দলের পরিবর্তন যাত্রা এই কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি যাওয়ার কথা। সেই কারনে এই তোরণ গেট লাগানো হয়েছিল। সেই গেটে দলীয় নেতাদের যে ছবি ছিল, তাতেই কালি লাগিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা।”

এই বিষয়ে রবিবার দুপুরে ব্যারাকপুর কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের বাসুদেবপুর মোড়ে ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের দলের পরিবর্তন যাত্রা কর্মসূচির গেট নষ্ট করে দিয়েছে। ওরা রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছে। আগামীদিনে যখন পরিবর্তনের পরিবর্তন হবে তখন মানুষ ওদের ছেড়ে কথা বলবে না। মানুষের প্রতিবাদের ভাষায় আমরাও সুরে সুর মেলাব। এভাবে বিজেপিকে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা যাবে না। মানুষ যখন ওদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে, তার দায় আমরা নেব না।”

এদিকে এই ঘটনায় তৃণমূলের জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। স্থানীয় মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নির্মল কর বলেন, “এই নোয়াপাড়ায় বিজেপি বলে কিছু নেই। ওদের কিছু সংগঠন থাকলে তবে তো ওদের বিরুদ্ধে কিছু করার প্রশ্ন ওঠে। আমরা ওদের দলের তোরণ বা গেট নষ্ট করিনি। এই অঞ্চলে ওদের আদি ও নব্য বিজেপির মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রবল। সেই করনে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আদি বিজেপি কর্মীরা এখন আর বিজেপিতে জায়গা পাচ্ছে না, সেই শত্রুতা থেকে ওরা ওদের দলের শীর্ষ নেতাদের ছবিতে কালি লেপে দিয়েছে। টিটাগড় থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

