“অখাদ্য শব্দগুলো জীবনে কোনও কাজেই আসে না“—প্রতীম রঞ্জন বসু

আমাদের ভারত, কলকাতা, ২০ ফেব্রুয়ারি: ভাষা দিবসের প্রাক্কালে বাংলা ভাষার প্রয়োগ নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা জানালেন অভিজ্ঞ সাংবাদিক প্রতীম রঞ্জন বসু।

‘দি হিন্দু বিজনেস লাইন’-এর প্রাক্তন ডেপুটি এডিটর প্রতীমের মতে, “টিভির বাংলা আমার হিন্দির সাথে তুলনীয়। অপ্রয়োজনীয় ভাবে ধামাকা, কেন কী, এসব তো আছেই……তবে এর উল্টো দিকও আছে। বিজ্ঞান ও ব্যবসা বিষয়ে চলতি ইংরেজি শব্দের ব্যবহার আমার বেশি পছন্দ। নিজের বাংলা লেখাতেও আমি এই এক্সপেরিমেন্ট করি। জনসংযোগের থেকে কম্যুনিকেশন শব্দটার পরিধি অনেক বড়। আমার লাভ/ক্ষতি ঠিক আছে নিট লাভও চলতে পারে। কিন্তু ডেপ্রিশিয়েশন শব্দটাকে বাংলা বানিয়ে নিলে দোষ কী? আমি বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়েছি। এগারো-বারো’তে ইংরেজি মিডিয়ামে এসে সেগুলো ভুলতে সময় লেগেছিল। এখন আমার একটাই মনে আছে— অক্সিজেনের বাংলা অম্লজান। এই বাংলা না বানিয়ে অক্সিজেন বললে কী মহাভারত অশুদ্ধ হত? ঐ অখাদ্য শব্দগুলো জীবনে কোনও কাজেই আসে না। বরং ইংরেজি শব্দগুলো ছোটবেলা থেকে জানলে পরে পৃথিবীর বিজ্ঞানের সঙ্গে সহজে ‘কানেক্ট’ করা যাবে। ভাষা ‘কম্যুনিকেট’ করার জন্যে। ইংরেজি একারনেই সারা পৃথিবীর ভাষা থেকে শব্দ নিয়ে নিজেদের ডিকশনারি’তে ঢোকায়। প্রত্যেক ৫০-১০০ বছরে ইংরেজি ভাষার শব্দ প্রচলন বদলে যায়। সংস্কৃত বেশি গোঁড়া হতে গিয়ে প্রচলন হারিয়ে ফেলেছে। বাংলা গোঁড়া নয়। কিন্তু ইংরেজির মত তার কোনও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতিও নেই। বাংলাদেশে তবু আছে। এখানে বাংলা অ্যাকাডেমি মানে হয় রাজনীতি নয় কেরদানি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *