সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৭ জুলাই: জাতিগত শংসাপত্র প্রদানে সরলীকরণ, অযথা হয়রানি বন্ধ, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত অলিচিকি শিক্ষক নিয়োগ ও অলচিকি হরফের পাঠ্যবই সহ সাঁওতালী মাধ্যমে পঠন পাঠনের সুপরিকাঠামো, জাল তপশিলি উপজাতি শংসাপত্র বাতিল, বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাত্রাবাসগুলি অবিলম্বে চালু সহ ২৫ দফা দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল বাঁকুড়া জেলা কমিটির পক্ষ থেকে আজ জেলাশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি বীরভূমের দেউচা পাচামির কয়লা খনি এবং পুরুলিয়ার অযোধ্যা, ঠুড়গা প্রকল্প বাতিল করার দাবিও জানানো হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।
এদিন সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে দলে দলে আদিবাসী মানুষজন এসে জড়ো হন বাঁকুড়া শহরের তামলিবাঁধ বাসস্ট্যান্ডের কাছে। সেখান থেকে মিছিল করে বেলা ১টা নাগাদ জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে হাজির হন। কোনও প্রকার অশান্তি এড়াতে এদিন সকাল থেকে প্রচুর পুলিশও সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল। কার্যত এদিন জেলাশাসকের কার্যালয় চত্বরে আদিবাসীদের ভিড় উপচে পড়েছিল। তীর ধনুক, ভোজালি ও টাঙ্গি সহ আদিবাসী সমাজের প্রথাগত অস্ত্র, ধামসা মাদল সহ বাদ্যযন্ত্র ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করা হয়।

জেলা সংগঠনের পক্ষে বিপ্লব সরেন, শ্যাম মান্ডি, সনগিরি হেমব্রম বলেন, রাজ্যে খেলা মেলা অনেক হয়েছে। সারা বছর ধরে তা এখনও চলছে। তাদের দাবি, এবার আদিবাসীদের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে। আদিবাসী ছাত্র ছাত্রীদের স্টাইপেন নিয়ে দুর্নীতির দূর করতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত প্রাপকদের স্টাইপেন দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। স্বাধীন ভারতে আদিবাসীদের জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করা চলবে না। জাহের থানের জমি পাট্টা দিতে হবে। সেই সঙ্গে বনাধিকার আইন ২০০৬ কার্যকারি করতে হবে। জমি কেনাবেচা ও হস্তান্তর বিষয়ে আদিবাসীদের হয়রানি করা চলবে না। তাদের বক্তব্য এসব দাবি না মানলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।
এ বিষয়ে জেলা শাসক দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ওনাদের দাবি দাওয়া সম্বলিত স্মারকলিপিটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

