ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেতাজি, স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল মোদী সরকার

আমাদের ভারত, ১৯ নভেম্বর: অবিভক্ত ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। দেশবাসীর কাছে এই তথ্য পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিল কেন্দ্র সরকার। এক্ষেত্রে বড়সড় পদক্ষেপ করছে মোদী সরকার বলে খবর।

১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের ক্যাথে সিনেমা হলে আজাদ হিন্দ সরকারের ঘোষণা করেছিলেন নেতাজী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নিজে। দু’দিন বাদে ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। এরপর ৩০ ডিসেম্বর আন্দামানের জিম খানা গ্রাউন্ড যা বর্তমানে নেতাজি স্টেডিয়াম হিসেবে পরিচিত সেখানে উত্তোলন করেছিলেন দেশের জাতীয় পতাকা। আন্দামান দ্বীপপুঞ্জকে শহিদ এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে স্বরাজ হিসেবে উল্লেখ করে আজাদ হিন্দ বাহিনীর জেনারেল এ বি লোগানাথানকে গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন সুভাষ চন্দ্র বসু। ভারতের ইতিহাসে এই অধ্যায়টি শুধুমাত্র একটি ঘটনা হিসেবে উল্লেখিত ছিল। তবে বেশ কিছু দিন ধরেই এই ঘটনাকে মান্যতা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্দামানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর দেওয়া ভাষণে নেতাজিকে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এবার এই ঘটনাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার কাজ শুরু করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষ উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে নতুন করে সেজে উঠেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, যার ছাপ পড়েছে লাল কেল্লাতেও। নতুন করে সাজানো হয়েছে সেখানকার মিউজিয়ামগুলি। যার একটি উৎসর্গ করা হয়েছে নেতাজি ও আজাদ হিন্দ বাহিনীর নামে। সেই মিউজিয়ামই একাধিক জায়গায় নেতাজিকে অবিভক্ত ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এক জায়গায় প্রথম সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ও তার মন্ত্রকের পরিচিতি দেওয়া রয়েছে। একটি অংশে নেতাজিকে অবিভক্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে সেই ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া আছে। বড় করে সাজানো আছে নেতাজির শপথপত্র। আরেকটি অংশে রয়েছে ক্যাথে সিনেমা হলে নেতাজির আজাদ হিন্দ সরকারের ঘোষণা পত্র পাঠের ছবি।

স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই গ্যালারিতে নেতাজির ছবিকে পরিচিতি দেওয়া হয়েছে অবিভক্ত ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও। নেতাজিকে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করাই নয়, মিউজিয়ামে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে কংগ্রেসের ত্রিপুরী ও হরিপুরা অধিবেশনের। যেখানে সুভাষ চন্দ্র বসুর সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী বিরোধের ঘটনার কথাও লেখা রয়েছে। মনে করা হচ্ছে পড়ুয়াদের পাঠক্রম, সরকারি বিভিন্ন নথি সহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও নেতাজিকে অবিভক্ত ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা শুরু করবে কেন্দ্র সরকার। এই মিউজিয়ামের বিষয়টি তারা প্রথম পদক্ষেপ।

1 thoughts on “ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেতাজি, স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল মোদী সরকার

  1. তাপসরঞ্জন অসিত দাস (Tapasranjan Asit Das) says:

    হিস্ট্রি বই গুলিতে লেখা হোক। ভারতের প্রথম প্রধান মন্ত্রী আমাদের “নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *