আমাদের ভারত, ১৫ ফেব্রুয়ারি: এআই প্রযুক্তিতে গোটা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ভারতের, এমনটাই মনে করেন ওপেন আই কর্ণধার স্যাম অল্টম্যান। চ্যাটজিপিটি’র স্রষ্টা জানিয়েছেন, ভারতে যে হারে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে সেটা লক্ষ্য করেই এখানে ব্যবসার বিস্তার ঘটানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এমনকি এক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের পথেও হাঁটা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন স্যাম।
ঘটনাচক্রে কিছুদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের রোষে পড়েছিল ওপেন আই। ভারতের সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধ এবং বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিবাদের আবহে হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা অভিযোগ করেছিলেন আমেরিকার করদাতাদের পয়সায় ভারত, চিনের মতো বিভিন্ন দেশকে এ আই পরিষেবা দিচ্ছে চ্যাট জিপিটি। হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন মুখ্য কৌশলীর দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ভারত এআই ব্যবহার করবে আর তার জন্য আমেরিকার নাগরিকরা কেন পয়সা খরচ করবেন? চ্যাটজিপিটি আমেরিকার মাটি থেকে কাজ করছে। আমেরিকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, আর পরিষেবা দিচ্ছে ভারত, চিন ও বাকি বিশ্বকে।
যদিও সম্প্রতি ভারত- মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েন খানিক কমেছে। ভারতীয় পণ্যে শুল্ক কমিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি বাণিজ্য সমঝোতাও হয়েছে দু’দেশের মধ্যে, কিন্তু তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রশাসনের হুঁশিয়ারির পর ভারতের প্রশংসা করে স্যাম যে মন্তব্য করেছেন তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
সোমবার নয়া দিল্লির ভারত মন্ডপমে শুরু হচ্ছে গ্লোবাল এআই ইম্প্যাক্ট সামিট ২০২৬। সেই সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন স্যাম। ওপেন আই ব্যবহারকারীর সংখ্যার নিরিখে আমেরিকার পরেই স্থান ভারতের। ভারত চ্যাটজিপিটির সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ১০ কোটি। শুধু তাই নয়, সারা বিশ্বে যতজন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে ব্যবহার করতে পারে সেরকম টুলও রয়েছে চ্যাট জিপিটি’র। সেটির নাম প্রিজম। এআই টুল ব্যবহারে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত।
গত বছরই নয়া দিল্লিতে নতুন দপ্তর খুলেছে ওপেন আই। স্যাম জানিয়েছেন, ভারতের চারটি বড় শহরের বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থার অন্তত ২০০ জন আধিকারিককে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এবার সরকারের সঙ্গে এ আই প্রযুক্তি নিয়ে সমঝোতার পথে হাঁটা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

