আমাদের ভারত, ৩ ফেব্রুয়ারি: ভারত- আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্য রপ্তানির পরিমাণ অনেক বাড়বে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে চুক্তির রূপরেখা স্থির করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণকারী কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল জানিয়েছেন, দেশের কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যে স্বার্থ কোনভাবে সমঝোতা না করেই আমরাই চুক্তি করেছি।
সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক চুক্তির কথা ঘোষণা করেন। ভারতীয় পণ্য শুল্ক কমিয়ে ২৫ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ করা হবে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার রাতে সমাজ মাধ্যমে এবং মঙ্গলবার সকালে এনডিএ বৈঠকে চুক্তির জন্য উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
কিন্তু মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাণিজ্য চুক্তি শর্ত হিসেবে এবার ভারতের কৃষি ক্ষেত্রের দরজা আংশিকভাবে খুলে দিতে চলেছে মোদী সরকার। যার প্রতিবাদ করেছে বিরোধীরা।
তবে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে পিযুষ গোয়েল অভিযোগ করেন, কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তিনি বলেন, রাহুল গান্ধীর একটি নেতিবাচক মানসিকতা রয়েছে। তিনি ভারতের অগ্রগতির বিরোধী। যদিও ভারত- মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধের খসড়া সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি মোদী সরকারের তরফে।
পীযুষ গোয়েল বাণিজ্য চুক্তিতে কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার সুরক্ষিত থাকার দাবি তুললেও দেশের প্রাক্তন বিদেশ সচিব তথা রাজ্যসভার রাষ্ট্রপতি মনোনীত সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রীংলা বলেন, কিছু জিনিস আমেরিকা থেকে আসবে, কিন্তু সেগুলি আমাদের কৃষি ক্ষেত্রের জন্য ক্ষতিকারক হবে না। এর মধ্যে কোনো স্ববিরোধিতা নেই। এর ফলে দেশে কৃষকরা কোনো সমস্যায় পড়বেন না।
বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা আপেল, ব্লুবেরী, ব্ল্যাকবেরির মত বাদাম জাতীয় ফল এবং নির্বাচিত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে ভারত। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারত ৪৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের জ্বালানি প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা এবং অন্যান্য পণ্য কিনবে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো প্রস্তুত হয়নি, তবে ভারতীয় পন্যে মার্কিন শুল্ক কমে ১৮% হাওয়ায় রপ্তানির অংক অনেক বাড়বে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ভারতবর্ষের মানুষের সামনে বড় নতুন বাজার খুলে যাবে।

