আমাদের ভারত, ৩০ আগস্ট: সম্প্রতি বেইজিং- এ প্রকাশিত একটি মানচিত্রে দেখা যায় অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চিন অঞ্চলকে নিজেদের দেশ বলে দাবি করেছে চিন। তারপর থেকে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে কড়া ভাষায় চিনের এই পদক্ষেপের নিন্দা করা হয়। স্পষ্ট করে জানানো হয় চিনের এই সব কার্যকলাপ সীমান্ত সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলবে।
যে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করা হয় তাতে দেখা যায়, ভারতের অরুণাচল প্রদেশ আকসাই চিন অঞ্চলকে নিজেদের দেশের অংশ বলে দাবি করেছে চিন। অন্যদিকে তাইওয়ান ও দক্ষিণ চিন সাগরকেও নিজেদের অংশ বলে দাবি করা হয়েছে। ওই মানচিত্র সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি এই বিষয়ে বলেন, চিনের তরফে ২০২৩ সালের মানচিত্রে ভারতের জমিকে নিজেদের বলে যে দাবি করা হয়েছে, কূটনৈতিক মাধ্যমে তার তীব্র বিরোধিতা ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি আমরা। এই ধরনের ভিত্তিহীন দাবিকে আমরা সম্পূর্ণ খারিজ করছি। চিনের এই ধরনের পদক্ষেপ সীমান্ত সমস্যাকে আরো জটিল করবে। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করও চিনের সমালোচনা করে বলেন, বিকৃত মানচিত্র প্রকাশ করা চিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশের ভূ-খণ্ডকে নিজের বলে দাবি করে ভুল করছে তারা।
সীমান্ত নিয়ে চিনের সঙ্গে বিরোধ নতুন নয়। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। জুন মাসে লাদাখের গালওয়ানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকে সীমান্ত সমস্যা মেটাতে দফায় দফায় সেনা ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা হয়েছে দু’দেশের মধ্যে।
সম্প্রতি ব্রিক্সের মঞ্চেও মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং। কিছুক্ষণের সাক্ষাতেও সীমান্ত সমস্যা নিয়েই আলোচনা হয়েছিল দুই রাষ্ট্র প্রধানের মধ্যে। কিন্তু তার মধ্যে চিনের আবার এই নতুন মানচিত্র প্রকাশ এবং ভারতীয় ভূ-খণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি করায় ফের অশান্তিতে উস্কানি বলেই মনে করা হচ্ছে।

