আমাদের ভারত, ১৭ আগস্ট:আফগানিস্তানে আটকে থাকা ভারতীয়দের উদ্ধার করাটাই অগ্রাধিকার। তবে তার সঙ্গে আফগান শিখ এবং হিন্দুদের উদ্ধার করতেও সাহায্য করবে ভারত। তালিবানরা আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বিবৃতিতে জানিয়েছেন যাত্রী বিমান পরিষেবা শুরু হলে আফগান শিখ এবং হিন্দুদের ভারতে আসতে সাহায্য করা হবে। আফগানিস্তানে পরিস্থিতির উপর ভারত নজর রাখছে। সেখানে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনাই ভারত সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আফগানিস্তান নিয়ে ভারত অত্যন্ত ভেবেচিন্তে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করতে চাইছে সেটা এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট।
একপাতা বিবৃতিতে মোট পাঁচটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে আটকে পড়া ভারতীয় থেকে শুরু করে সেখানকার শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে ভারত সরকার এদেশে নিয়ে আসতে চায়। এছাড়াও সেখানকার যে সমস্ত আফগান সদস্যরা ভারতের সঙ্গে কাজ করছেন আর সেখানকার কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আফগানিস্তান থেকে নিয়ে আসার বিষয়ে সাহায্য করবে ভারত। এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত নিজের স্বার্থ বিবেচনা করেই আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতির দিকে লাগাতার উচ্চপর্যায়ে নজর রাখা হচ্ছে। ভারতীয়দের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারত সরকার সমস্ত ধরনের পদক্ষেপ করবে। শুধু তাই নয়, ভারত সরকার সেখানকার আফগান শিখ এবং হিন্দুদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রেখেছে সেটাও জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র। যে সমস্ত আফগান হিন্দু ও শিখরা দেশ ছাড়তে চান তাদের ভারতে আসতে সাহায্য করবে সরকার। ইতিমধ্যেই তার জন্য পদক্ষেপও করে ফেলেছে সরকার। যে সমস্ত আফগান নাগরিকরা ভারতে আসতে চান তাদের জন্য দ্রুত নতুন ই-ভিসার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে ভারতীয় বায়ুসেনার C-17 যুদ্ধবিমান ১২০ জন ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীকে নিয়ে কাবুল থেকে দেশে ফিরেছে। আপাতত কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস জনশূন্য।
আগের আফগান সরকারের সঙ্গে ভারতের অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান গ্রহণ যে অত্যন্ত কঠিন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তালিবান সরকারকে এখনো পর্যন্ত ভারত স্বীকৃতি দেয়নি। তবে আফগানিস্তানের এই তালিবান সরকারকে ইতিমধ্যেই স্বাগত জানিয়েছে চিন ও রাশিয়া।

