সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৯ ফেব্রুয়ারি: তৃণমূলের ব্লক কার্যালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যে নতুন দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন হল। নাম দেওয়া হল ‘মা মাটি মানুষের মন্দির’। আজ পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকের বোঙ্গাবাড়ি গ্রামের বিবেকানন্দ নগরে এই দ্বিতীয় কার্যালয় কার্যত ফের জন্ম দিল দুটো গোষ্ঠীর। এলাকায় জেলা পরিষদ পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি হলধর মাহাতোর উদ্যোগে দ্বিতীয় নতুন দলীয় কার্যালয়টি হল। রক্তদান শিবির ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয় দলীয় কার্যালয়ের। উদ্বোধন করেন জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তবে এদিন এই নতুন দলীয় কার্যালয়ে দেখা যায়নি জেলা তৃণমূল সভাপতি এবং ব্লক সভাপতির। তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে দলীয় কোন্দলের প্রশ্ন উঠেছে।

প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া বিধানসভা আসনটিতে তৃণমূলকে টপকে এগিয়ে যায় বিজেপি। কার্যত পরাজিত হয়েছিল তৃণমূল। এর কারণ তৃণমূলের দলীয় তদন্তে উঠে আসে অন্তর্কলহ। ওই বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী কংগ্রেস নেতা সুদীপ মুখার্জি বর্তমানে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। পুরুলিয়া বিধানসভার অন্তর্গত পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সব রাজনৈতিক দলের কাছে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই পুরুলিয়া ২ নম্বর ব্লক নেতৃত্বের মধ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব লেগেই ছিল। আজকের দলীয় নতুন কার্যালয় সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কি বাড়িয়ে দিল?
প্রকাশ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দের কথা অস্বীকার করেছেন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ হলধর মাহাতো। তাঁরা বলেন, “এই ব্লকে ছন্ন ছাড়া কর্মীদের এককাট্টা করতে দলীয় এই কার্যালয়ের প্রয়োজন ছিল। এই কার্যালয়ে সবাই আসবেন এবং দলের সাংগঠনিক কাজ করবেন।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলের জেলা সভাপতি, ব্লক সভাপতিদের অনুপস্থিতির কারণ পরিষ্কার করতে পারেননি তাঁরা।

তৃণমূলের পুরুলিয়া ২ ব্লকের সভাপতি কাঞ্চন দিগার বলেন, “দলের অনুমোদন ছাড়া কার্যালয়ের উদ্বোধন করা ঠিক হয়নি। অঞ্চল সভাপতিদের না যাওয়ার জন্য আগেই নিষেধ করেছিলাম। দলের জেলা চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রী হয়ে এটাকে মদত দেওয়া ঠিক হয়নি শান্তি বাবুর। এমন হলে সামনের নির্বাচনে লড়ব কেমন করে?”
জেলা সভাপতি গুরুপদ টুডু বলেন, “ভোটের সময় কাজের জন্য আমাদের একাধিক কার্যালয় খুলতে হয়। এটা মা মাটি মানুষের মন্দির। কোনও মনোমালিন্য দলে নেই।”
এদিন ব্লকের বিভিন্ন এলাকা থেকে তৃণমূলের কর্মীদের দেখা গিয়েছে দ্বিতীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনে। সেখানে দুপুরে পাত পেড়ে খিচুড়ি খেয়েছেন হাজার তৃণমূল কর্মী।

