চরম বিভ্রান্তি উদ্বোধনে, পাঁচ বছর প্রতীক্ষার পর বাঁকুড়ায় নবনির্মিত সতীঘাট সেতুতে শুরু যানচলাচল

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৬ এপ্রিল: চরম বিভ্রান্তির মধ্যেই ভার্চুয়াল উদ্বোধনের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের প্রতীক্ষার অবসান।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক ভার্চুয়াল উদ্বোধনের পর বহু প্রতীক্ষিত বাঁকুড়া শহরে গন্ধেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত সেতু খুলে দেওয়া হলো। আজ বিকাল চারটায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল এই সেতুর উদ্বোধন করবেন বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হলেও আজ দুপুরে জানানো হয় মুখ্যমন্ত্রী বেলা একটায় সেতুর উদ্বোধন করবেন।এছাড়া বিকেল চারটায় স্হানীয় অনুষ্ঠান হবে বলে জানানো হয়। সেই কারণেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। পরিবর্তিত সময় মত দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেতুর উদ্বোধন করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেতুর উদ্বোধনে শহর লাগোয়া নদী তীরবর্তী গ্ৰামের মানুষ খুশিতে আত্মহারা।

বাঁকুড়া শহরের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে বয়ে চলা গন্ধেশ্বরী নদীর উপর উচ্চতা বিশিষ্ট একটি সেতুর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। এই সেতুটি শুধুমাত্র বাঁকুড়ার সাথে সড়ক পথে দুর্গাপুরের সংযোগকারীই নয়, নদীর তীরবর্তী কেশিয়াকোল, বিকনা, কদমাঘাঁটি, মিথিলা, মাকুড়গ্ৰাম সহ বহু গ্ৰামের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। ২০১৭ সালে বর্ষায় অতি বৃষ্টিতে নদীর উপর নির্মিত নীচু সেতু বা চাতালের উপর দিয়ে জল বয়ে বন্যার পরিস্থিতি তৈরী করে। নদীর জলের বেগে আস্ত দোতলা বাড়ি হুড়মুড়িয়ে জলের তলায় চলে যায়, বহু ঘর বাড়ি জলমগ্ন হয়ে যায়।এছাড়াও প্রতি বর্ষায় সেতু জলমগ্ন হয়ে নদী তীরবর্তী গ্ৰামগুলিকে বিচ্ছিন্ন করে।জলমগ্ন সেতু পার হতে গিয়ে প্রতি বছরই একাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটতো। এই অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি পেতে উচ্চতা বিশিষ্ট সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের।

অবশেষে উচ্চতা বিশিষ্ট সেতুর ছাড়পত্র মেলে। ২০১৮ সালে শুরু হয় সেতু নির্মাণের কাজ। সরকারি স্তরে তখনই ঘোষণা করা হয় দু’বছরের মধ্যেই সেতু নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হবে। সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও নদীগর্ভে বিশাল আকৃতির পাথরের স্তর থাকায় থমকে যায় নির্মাণের কাজ। নদী তীরবর্তী একটি বহুতল আবাসন ও জনবসতির কথা মাথায় রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাথরের স্তর কেটে পিলার তৈরী করে কাজ শুরু হয়। ১৫৫ মিটার লম্বা এবং ১৫ মিটার চওড়া এই সেতু নির্মানে ব্যায় বরাদ্দ হয় ১৬ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা।রাজ্য পূর্ত দপ্তর এই সেতু নির্মাণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *