জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩০ জুন: যসের ক্ষতিপূরণ চাওয়া আবেদন পত্রের বিরানব্বই শতাংশই ভুয়ো হিসেবে চিহ্নিত করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। রাজ্য সরকারের নির্দেশমত উনিশ থেকে ত্রিশ জুন পর্যন্ত জমা পড়া আবেদনপত্রগুলি আজ বুধবার খতিয়ে দেখার শেষ দিন ছিল।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যস ঝড়ের ক্ষতিপূরণ চেয়ে জেলার সাতটি ব্লকে প্রায় বত্রিশ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। তারমধ্যে দেখা যাচ্ছে উনত্রিশ হাজার সাতশো আবেদনপত্রই ভুয়ো। জেলায় যস ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি ব্লকের চল্লিশটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দুয়ারে ত্রাণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসন থেকে ১৬ টি দল গঠন করে আবেদনকারীদের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে বেশিরভাগ আবেদনপত্রই ভুয়ো। আবেদনকারীদের পাকা বাড়ি রয়েছে এবং কোনও ক্ষয়ক্ষতিই হয়নি। অনেকেই পেশায় ব্যবসায়ী। অনেকের বাড়িতে গৃহপালিত পশু ছিলই না অথচ ঝড়ে বাজ পড়ে তা মারা গেছে বলে আবেদন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গতবছর আম্ফান ঝড়ে জমা পড়া আবেদনপত্র খতিয়ে দেখা গিয়েছিল প্রায় ছিয়াত্তর শতাংশ আবেদনপত্রই ভুয়ো ছিল। সেবার আবেদনপত্র জমা পড়েছিল আড়াই লক্ষেরও বেশি। তারমধ্যে প্রায় দু’ লক্ষ আবেদনপত্র বাতিল করা হয়েছিল। একইভাবে যসের ক্ষেত্রেও বিরান্নবই ভাগ আবেদনপত্র বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ আম্ফানের থেকেও যসে ভুয়া আবেদনপত্রের সংখ্যা অনেক বেশি।
জেলাশাসক রোশমি কমল জানিয়েছেন, টিম গঠন করে আবেদনকারীদের প্রত্যেকের বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। দেখা গেছে বেশিরভগেরই কোনও ক্ষয়ক্ষতি না হওয়া সত্ত্বেও তারা আবেদন করেছেন। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে ভুয়ো আবেদনপত্র বাতিল করা হয়েছে। আজকের মধ্যেই সামগ্রিক রিপোর্ট হাতে এসে যাবে।

