পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৬ সেপ্টেম্বর: মেদিনীপুর পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নলবাহিত জলের কলগুলি থেকে দূষিত ঘোলা জল বের হওয়ায় ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা কয়েকদিন ধরেই পানীয় জলের সঙ্কটে ভুগছেন। বিষয়টি বারবার লিখিতভাবে চেয়ারম্যানকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর মোহম্মদ সইফুলের।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষ পান করার জল টুকুও পাচ্ছে না। তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খানকে বারবার বলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। অন্যান্য ওয়ার্ডগুলিতে পাম্প বসলেও আমার ওয়ার্ড বঞ্চিত হচ্ছে। অসহায় মানুষগুলো পৌরসভাকে ট্যাক্স দিচ্ছেন, অথচ আমরা তাদের পানযোগ্য জল সরবরাহ করতে পারছি না। এলাকায় পানীয় জলের হাহাকার দেখা দিয়েছে।

স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও মেদিনীপুর শহরের মানুষ পানীয় জল না পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত লজ্জার বলে মনে করি। ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পানীয় জলের সমস্যা দ্রুত সমাধান করার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে চেয়ারম্যানের কাছে ফের লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে বলে কাউন্সিলর মোহম্মদ সইফুল জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার এই বিষয়টি নিয়ে মেদিনীপুর সদর মহকুমা শাসককেও ডেপুটেশন দেওয়া হয় ওয়ার্ডবাসীর পক্ষ থেকে। তবুও সুরাহা না হওয়ায় আজ কাউন্সিলর সইফুলের নেতৃত্বে ওয়ার্ডবাসীদের নিয়ে পৌরসভার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

উল্লেখ্য যে, মেদিনীপুর পৌরসভার বিশুদ্ধ পানীয় জলের হাহাকার প্রায় সব ওয়ার্ডেই কম বেশি আছে। কিন্তু পৌরসভা হাত গুটিয়ে বসে আছে। কয়েকটি ওয়ার্ডে এত সুন্দর পানীয় জল পাওয়া যায় যে একবার পান করলেই হাসপাতালের বেড খালি রাখতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে বেশিরভাগ বাসিন্দারা পানীয় জল পরিশ্রুত করার জন্য বাড়িতেই ফিল্টার ব্যবহার করছে। নিন্দুকেরা বলছে ডাক্তারদের যেমন ঔষধ কোম্পানীগুলোর সাথে অলিখিত চুক্তি থাকে, তেমন কি পৌর প্রশাসনের অলিখিত কমিশন ভিত্তিক চুক্তি আছে ফিল্টার কোম্পানি গুলোর সঙ্গে ? আর পৌরসভা মেলা, খেলা, উৎসবে লাখ লাখ টাকা খরচ করছে অথচ শহরবাসী বিশুদ্ধ পানীয় জল পাচ্ছে না। রাজ্যের শাসক দল বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিমাতাসুলভ আচরণের অভিযোগ করে। অথচ সেই শাসক দলের চেয়ারম্যান বিরোধী দলের এবং নিজের দলের বিরোধী গোষ্ঠীর ওয়ার্ডগুলোতে একই রকম আচরণ করছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। ওয়ার্ডের ফান্ড আটকে রেখেছে মেদিনীপুর বিধানসভার বিধায়ক ঘনিষ্ঠ চেয়ারম্যান সৌমেন খান। শহরবাসী ভেবেছিল যে দলমত ঊর্ধ্বে উঠে এই চেয়ারম্যান মেদিনীপুর শহরবাসীর একনম্বর নাগরিক হবেন, কিন্তু বাস্তবে তা না। তিনি শহরবাসীর চেয়ারম্যান হয়ে উঠতে পারেননি। তিনি বিধায়ক এবং নিজের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরের চেয়ারম্যান। ফলে শহরের নাগরিকবৃন্দ পৌর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে পুরপ্রাশাসন।

