তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল গোসাবায়, পিটিয়ে খুনের অভিযোগ বুথ সভাপতিকে

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ২৭ নভেম্বর: সরকারি নির্দেশিকা মেনে রাস্তা তৈরি না হওয়ায় প্রতিবাদ করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা মুছাক অলি মোল্লা (৩৪)। সেই কারণে তাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের অপর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবার পূর্ব রাধানগর এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়ে সুন্দরবন কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এই ঘটনায় মোট আট জনকে আটক করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় রাধানগর তারানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আমতলি খেয়াঘাট থেকে তাঁতকল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার কংক্রিটের রাস্তা তৈরির কাজ চলছিল। এই রাস্তা ৬ ফুট চওড়া ও ৬ ইঞ্চি পুরু হওয়ার কথা থাকলেও রাস্তা ৫ ফুট চওড়া ও ৪ ইঞ্চি পুরু হচ্ছিল। কেন সরকারি নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে না সেই প্রতিবাদ করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূলের ৯৮ নম্বর বুথের সভাপতি মুছাক। অভিযোগ, সেই সময় গোসাবার বিধায়ক সুব্রত মণ্ডলের অনুগামী বাকিবুল মোল্লা, রউপ মোল্লা, জাকির মোল্লা ও তাদের অনুগামীরা লাঠি, রড নিয়ে হামলা চালায় মুছাকের উপর। পাল্টা মুছাকের লোকজনরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে পড়েন মুছাক। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ছোটমোল্লাখালি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। কিন্তু সেখানেই এদিন বিকেলে মৃত্যু হয় মুছাকের। এই খবর এলাকায় আসতেই নেমে আসে শোকের ছায়া। মুছাকের পরিবারের দাবি, জেলা পরিষদের সদস্য তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের উপাধক্ষ্য অনিমেষ মণ্ডলের অনুগামী হওয়ায় পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে মুছাককে। এই ঘটনায় বিধায়ক সুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা জড়িত।

মৃতের স্ত্রী তানজিলা মোল্লা বলেন, “এর আগেও ওকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিল বাকিবুল, রউপরা। মুছাক, অনিমেষ ও তপনদের সাথে পার্টি করে করে বলে বিধায়কের লোকজন ওকে খুন করেছে। আমি দোষীদের শাস্তি চাই।”

অনিমেষ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অসামাজিক কাজের সাথে যুক্ত এই অভিযুক্তরা। পুলিশ, প্রশাসন সবই জানেন। বিধায়কের মদতেই এরা এলাকায় অশান্তি পাকাচ্ছে। রাস্তার কাজ থেকে কাটমানি খাওয়ার চেষ্টা করছিল, মুছাক প্রতিবাদ করায় তাকে খুন করল।”

যদিও এই ঘটনার পর থেকে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি গোসাবার বিধায়ক সুব্রত মণ্ডলের সাথে। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএসের উত্তরও দেননি। তবে এই ঘটনা তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল ও ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে বিবাদের জেরে ঘটেছে বলে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সর্দার বলেন, “আমরা আগেও বলেছি তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল শুধু কাটমানির ভাগ নিয়ে। এখানেও ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে অশান্তির কারণেই এই খুন।”

প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, “কাটমানির ৭৫% কালীঘাট বা ক্যামাক স্ট্রিটে যাওয়ার পরে ২৫%-এর ভাগ নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই হচ্ছে, খুন হচ্ছে। আমরা আগেই বলেছিলাম, তৃণমূলের হাতে তৃণমূলও সুরক্ষিত নয়। এই কাটমানি, বখরা নিয়ে মারামারির সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছেন কাটমানির সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ চুপ করে আছে। দলদাসে পরিণত হয়েছে পুলিশের একাংশ।” সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “ফিরহাদ হাকিমরা জয়নগরের ঘটনায় বলে এলেন সিপিএম দায়ী। এলাকার মানুষ এবং তৃণমূল নিজেও জানে, বখরা নিয়ে লড়াই চলছে। তারকেশ্বর, গোসাবায় যা ঘটেছে, তার পরে ফিরহাদরা কী বলবেন? দোষ চাপানোর জন্য যখন যাকে মনে হয়, তাদের ঘাড়ে দিয়ে দেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *