স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৬ জানুয়ারি: কথায় আছে বাঙালি মানেই ভোজনরসিক। আর বারো মাসে তেরো পার্বন তো আমাদের জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে। শারদ উৎসব পেরোলেই শুরু হয়ে যায় শীতের আমেজ। যদিও নভেম্বর মাসের মধ্যে হালকা শীতের আমেজ অনুভূত হয়। পরে ধীরে ধীরে শীত জাঁকিয়ে পড়তে থাকে। পাশাপাশি মাঝে মাঝে আকাশ মেঘলা থাকায় শীতের কনকনে ভাব হাড়ে হাড়ে টের পায় মানুষজন। আর এই সময়ই জোড় কদমে চলে নতুন ধান ঘরে ওঠাবার পালা। আর তখনই ভোজন রসিক বাঙালির কাছে আসে খেজুরের রস ও খেজুরের গুড়। সাথে আপামর বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠে পুলির অনুষ্ঠান।

আর পিঠে-পুলি তৈরিতে চাই নলেন গুড়। শুধু পিঠে পুলি নয়, নলেন গুড় থেকে তৈরী নলেন গুড়ের রসগোল্লা, নলেন গুড়ের সন্দেশ, গজা, মোয়া সহ নানা সুস্বাদু খাবার। আর ভোজন রসিক বাঙ্গালি অপেক্ষায় থাকে এসবের স্বাদ নিতে।

তবে এই খেজুরের গুড় সহজেই পাওয়া যায় না। রস থেকে গুড় তৈরি হতে লাগে অনেকটা সময়।
খেজুর গাছ প্রথমে কেটে রসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, গাছে হাঁড়ি বেঁধে। সারা রাত ধরে রস হাঁড়িতে ভর্তি হয়। সেই রস সংগ্রহ করে, জাল দিয়ে নলেন গুড় তৈরি হয়। আর এই সময় এটাকে নলেন গুড় তৈরীকে পেশা হিসেবে বেছে নেয় অসংখ্য মানুষ।
নদিয়ার এদবার আলী সেখ জানান, প্রতি বছরই এই সময়ের অপেক্ষায় থাকেন তিনি। কারণ এই খেজুরের রস ও গুড় বেচে তার বেশ আয় হয়। এক কথায় এটা তার মরসুমী পেশা। তিনি জানান, গাছ থেকে রস নেবার পর কমপক্ষে সাতদিন বিশ্রাম দিতে হয়, একে বলে শুকি। এই শুকি না দিলে খেজুর রসের স্বাদ থাকবে না ফলে নলেন গুড়ের স্বাদও কমে যাবে। তবে বর্তমানে বাজারে সব জিনিস পত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া কিন্তু গুড়ের দাম সেভাবে পাওয়া যায় না বলে আক্ষেপ এই পেশায় যুক্তদের।

তবে গত দু’বছর ধরে চলতে থাকা করোনা মহামারীর জেরে ব্যবসায় অনেকটা মন্দা পড়েছিল। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই এই শীতের সময় ফের নলেন গুড়ের ব্যবসায় লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দাম যাই হোক বাঙ্গালি শীতের সময় গুড়ের স্বাদ নিতে বা নলেন গুড়ের তৈরী মিষ্টি সহ খাদ্য সামগ্রীর স্বাদ নিতে কার্পন্য করে না তা মিষ্টির দোকান বা বাজারে মানুষের কেনা কাটার ভিড় দেখলেই বোঝা যায়।

