ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উপেক্ষিত শ্রমিক বঞ্চনা, বাঁকুড়ায় আশাহত শ্রমিক মহল

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১১ নভেম্বর: শ্রমিকদের অভাব অভিযোগ ও বঞ্চনা প্রসঙ্গে একটিও শব্দ খরচ করলেন না তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি’র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সে কারণে হতাশ শ্রমিকরা। শুক্রবার সারাটা দিন অপেক্ষায় ছিলেন বড়জোড়া মেজিয়া শিল্পাঞ্চলের কয়েক হাজার ঠিকা শ্রমিক।

এদিন সন্ধ্যায় বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি রথীন ব্যানার্জি কালী পুজোর উদ্বোধন করতে এসেছিলেন ঋতব্রত। দুর্লভপুর শ্রমিক ভবনের সামনে বিশাল প্যান্ডেলে ৭ম বর্ষের পুজোর উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়। সেই সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংবর্ধনা ও বক্তব্য রাখার জন্য সুদৃশ্য মঞ্চও তৈরি ছিল। শ্রমিক নেতাকে সেখানে ফুল মালা দিয়ে বরণ করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্মারক উপহারও দেওয়া হয় শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের সামনেই। শ্রমিকরাও উৎসুক ছিলেন এবার তিনি তাদের বঞ্চনার কথা তুলে উত্তর ভারতের সর্ব বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সংস্থা ডিভিসির বার্ষিক মেইনটেনেন্স কাজে নিযুক্ত ঠিকা সংস্থা ও ডিভিসিকে শ্রম আইন বহির্ভূত কোনো বেনিয়ম চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দেবেন এরকম প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে সে সব কিছু না বলে তুলোধোনা করলেন কেন্দ্রীয় সরকার ও তাদের তদন্তকারি সংস্থা ইডি সিবিআইকে।

অথচ এদিনই সকালে বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় আড়াই হাজার ঠিকা শ্রমিক ডিভিসির মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান। ঠিকা শ্রমিক শান্তিময় দাস বলেন, আমরা আগে যেসব ফ্রিঞ্চ বেনিফিট পেতাম এখন ঠিকা সংস্থাগুলি দিতে চাইছে না। আরেক শ্রমিক অচিন্ত্য দাস ও কালীপদ মন্ডলের দাবি, ঠিকা
সংস্থাগুলি শ্রমিকদের বঞ্চিত করে বেনিয়মের পথ তৈরি করেছেন। আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করছি। বড়জোড়া, মেজিয়া, শালতোড়া সহ সমগ্র উত্তর বাঁকুড়াজুড়ে অসংখ্য অনুসারী শিল্প কারখানা রয়েছে। সেখানেও শ্রমিক শোষণ চলছে নানা কৌশলে। এদিন শাসক দলের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি এখানে জেলা শ্রমিক সংগঠনের সভাপতির ডাকে আসছেন শুনে শ্রমিকরা আশায় বুক বাঁধছিলেন। কিন্তু তারা হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন।

এবিষয়ে শিল্পাঞ্চলের বিজেপি নেতা অজয় ঘটকের দাবি, জেলায় দুটি সাংসদ বিজেপির। মেজিয়া, গঙ্গাজলঘাঁটি শিল্পাঞ্চলের বিধায়ক বিজেপির। তারই বদলার জন্য শ্রমিকদের উপর কোপ পড়েছে গত ৫ বছর ধরে। সামনেই লোকসভা ভোট। তৃণমূল বোঝাতে চাইছে এবারও যদি তাদের ভোট না দাও তাহলে বঞ্চিতই রাখা হবে। অজয়বাবু বলেন, কিন্ত সামনের কালীপুজো পর্যন্ত এরাজ্যে তৃণমূল থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *