পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২০ আগস্ট: প্রাথমিকে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায়ের অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ চাকরি প্রার্থীদের। শনিবার সকালে বালুরঘাটের ৮ নন্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলপুর যোগোমায়া স্কুলপাড়া এলাকার এমন ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় ছুটে আসে বালুরঘাট থানার পুলিশ ও এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর। যাদের উপস্থিতিতেই ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেন স্থানীয়রা।
জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে প্রাইমারির চাকরি দেবার নাম করে বালুরঘাট ব্লকের নুনইল এলাকার বাসিন্দা পেশায় কৃষক নকুল মন্ডলের কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বিপ্লব মন্ডল নামে এক তৃণমূল নেতা। চককাশি এলাকার বাসিন্দা পেশায় এলআইসির এজেন্ট বিপ্লব বাবু বালুরঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত। বর্তমানে বালুরঘাট শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যোগমায়া স্কুলপাড়া এলাকায় আরো একটি বাড়ি করেছেন অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতা। যার বিরুদ্ধেই প্রাথমিকে চাকরি দেবার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার এমনই অভিযোগ তুলে নুনইলের বাসিন্দা নকুল মন্ডল ও তার পরিবার বালুরঘাটে ওই তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। চলে তৃণমূল নেতার শিক্ষিকা স্ত্রীর সাথে বচসা। যে ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজিত হয়ে ওঠে এলাকা। প্রতারিতদের পাশে দাঁড়িয়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও। তৃণমূল নেতা বিপ্লব মন্ডলকে খুঁজতে একসময় বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে তল্লাশি চালায় একদল মহিলা। যে খবর পেয়েই এলাকায় ছুটে আসে বালুরঘাট থানার পুলিশ ও এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর সুরজিত সাহা। যাদের উপস্থিতিতেই অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতার বাড়ির গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন বাসিন্দারা। বের করে দেওয়া হয় বৃদ্ধ মাকে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃণমূল নেতার শিক্ষিকা স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। যদিও বেশ কিছুদিন ধরে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন অভিযুক্ত ওই তৃণমূল নেতা বিপ্লব মন্ডল।
কৃষক নকুল মন্ডল ও তার মেয়ে ঋতু মন্ডল বলেন, ছয় বছর হয়ে গেল জমি বিক্রি করে মেয়ের প্রাইমারির চাকরির জন্য সাড়ে চার লক্ষ টাকা দিয়েছেন। স্ট্যাম্প পেপারে তার লিখিতও রয়েছে। মাসের পর মাস বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি দিয়েই চলেছেন। গরিব মানুষ তারা, তাদের কষ্টের টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া হোক সেটাই চাইছেন।
এলাকার বাসিন্দা সম্রাট মহন্ত বলেন, পাড়ার মধ্যে রোজ এসব ঝামেলা তারা বরদাস্ত করবেন না। ওই পরিবারটিকে তারা সামাজিক বয়কট করবেন।
তৃণমূল কাউন্সিলর সুরজিত সাহা বলেন, চাকরির নাম করে টাকা নিয়েছে এক ব্যক্তি সেই খবর শুনে এলাকায় এসে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেছেন। পুলিশ এসে ঘটনার তদন্ত করছে। তবে তালা মারা হয়েছে কিনা সেবিষয়ে কিছু বলতে চাননি।
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার শিক্ষিকা স্ত্রী সোমা মন্ডল অবশ্য জানিয়েছেন, নাটক করছে এসব। তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে।
ঘটনা নিয়ে বিজেপির জেলা নেতা বাপি সরকার বলেন, শুধু বালুরঘাট নয় রাজ্যের সমস্ত প্রান্তে এরকম তৃণমূলের নেতারা টাকা তুলেছে। এসব নেতাদের উচিত কে কে এই ঘটনায় জড়িত তাদের নাম বলে দেওয়া।
যদিও তৃণমূল নেতা সুভাষ চাকির দাবি, তৃণমূলের নামে মিথ্যে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি কোনদিন শোনেননি বিপ্লব মন্ডল নামে তাদের দলে কোনো লোক আছে।

