পুর নির্বাচনে ‘মনুষ্যত্ব আর সম্পর্ক’ জিইয়ে রাখল পুরুলিয়া

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৭ ফেব্রুয়ারি: রাজ্যে রাজনীতির পরিসর থেকে ‘সহজ সৌজন্য’ ক্রমশ অন্তর্হিত হচ্ছে। কিন্তু, জেলা পুরুলিয়ার রাজনীতির পরিসরে সৌজন্য অতি স্বাভাবিক এবং সুলভ, এমন কথা বলা যে ভুল নয় তার প্রমাণ মিলল আবার। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর পৌরসভায় সকাল থেকে নির্বিঘ্নেই চলছে ভোট, তারই মাঝে বেঞ্চে বসে আড্ডায় মশগুল সব পক্ষের প্রার্থীরা।

রাজ্যের পুরনিগমগুলিতে ভোট শেষ হয়েছে আগেই। এবার ভোট হল রাজ্যের ১০৮ পুরসভায়। রবিবার সকাল ৭টা থেকে ভোট গ্রহণ পর্ব শুরু হয়, চলল সন্ধ্যা ৬টা অবধি। ভোটের আগের রাত থেকেই জেলায় জেলায় অশান্তির খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। ভোটের দিনও সেই সন্ত্রাসের ছবিই অব্যাহত। কোথাও বাইক বাহিনীর তাণ্ডবে ভোটের শুরুতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পোলিং বুথ, আবার কোথাও প্রার্থীকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ, জায়গায় জায়গায় অশান্তির মাঝে যখন মানুষ নিজের মতদান করছে, তখন একেবারে অন্য ছবি ধরা পড়ল পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে।

ভোট আসবে যাবে। কিন্তু মনুষ্যত্ব আর সম্পর্কই থেকে যাবে। এই কথাতেই বিশ্বাস রাখেন রঘুনাথপুর পৌরসভার সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। রঘুনাথপুর গার্লস স্কুলে একই বেঞ্চে পাশাপাশি বসে আড্ডা দিতে দিতে হাসি মুখে এই কথাগুলোই বললেন তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএম প্রার্থীরা।

তাদের কথা, কারও সঙ্গে কারও কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। তারা এক একটা দল করেন ঠিকই। তার জন্য নীতিগত মতবিরোধও থাকে। ব্যক্তিগত শত্রুতা কারও সঙ্গেই কারও নেই। ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গাটা আলাদা। সেই সৌজন্য আদানপ্রদানের ছবিই ধরা পড়লো পুরভোটের মাঝে।

না, কারো বিরুদ্ধে কারোর কোনো অভিযোগ নেই। নির্বিঘ্নে ভোট গ্রহণ চলেছে। পুরুলিয়ার রাজনীতিতে সৌজন্য সংস্কৃতি যে কতখানি জায়গা জুড়ে তা প্রমাণ করে দিলেন রঘুনাথপুর এর তৃণমূল প্রার্থী প্রণব দেওঘরিয়া, বিজেপি প্রার্থী বাণেশ্বর মুখার্জি, কংগ্রেস প্রার্থী রামাকান্ত দত্ত, সিপিআইএম প্রার্থী দিনবন্ধু শিকদাররা।

বলাই বাহুল্য, রাজনীতি কখনোই সৌজন্যমূলক ছিল না। রাজনীতিতে সর্বদাই কাদা ছোড়াছুড়ির প্রবণতা ছিল। নির্বাচন জিততে গেলে কে কতটা ভালো তা কাজে দেয় না, বরঞ্চ প্রতিপক্ষকে কতটা খারাপ প্রতিপন্ন করা যায় তার উপরই নির্ভর করে নিজের নির্বাচন জয়ের ভাগ্য।
কিন্তু, বুঝতে হবে রাজনৈতিক নেতানেত্রীরাই রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করেন। আর সেক্ষেত্রে অন্যান্য জেলাকে পেছনে ফেলে পুরুলিয়া যে অনেকটাই এগিয়ে তা বোধহয় আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই বারংবার, জেলা পুরুলিয়ার রাজনীতির মঞ্চে সৌজন্য দৃশ্যাবলি দেখা যায়, যা অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *