আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ৫ নভেম্বর: চা সুন্দরী প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে আলিপুরদুয়ার জেলার তিনটি চা বাগানে মোট ৩১০৮টি বাড়ি তৈরি হতে চলেছে।জানা গেছে, জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের লঙ্কাপাড়া চা-বাগান, মুজনাই চা-বাগান, ঢেকলাপাড়া চা-বাগানে ইতিমধ্যেই জমি জরিপের কাজ সম্পুর্ন হয়েছে। বর্তমানে নির্ধারিত নির্মান স্থানে আগাছা সাফাই সহ অন্যান্য কাজ চলছে। চা সুন্দরী প্রকল্প উত্তরের চাবলয় জুড়েই চলবে।
উল্লেখ্য, চা সুন্দরী প্রকল্পকে গোটা দেশের মধ্যে চা-বাগানে ইউনিক প্রকল্প হিসেবে বর্ননা করেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। উত্তরবঙ্গে চা-বাগানের চরিত্র যথেষ্টই জটিল। সিংহভাগ চা-শ্রমিক আদিবাসী। যাদের গত ১০০বছরে জমির অধিকার ছিল না। এবার সেই চা শ্রমিকদের হাতে উঠে আসবে নিজেদের বাড়ি। প্রতিটি বাড়ি দুই বেডরুমের হতে চলেছে। সঙ্গে থাকছে রান্নাঘর, পৃথক শৌচাগার।যেগুলিতে একটি ছোট চা-শ্রমিক পরিবার স্বচ্ছন্দে থাকতে পারবে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আপাতত উত্তরবঙ্গের সিংহভাগ চা-বাগানে চা-শ্রমিকদের আবাসনগুলি ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সের। এক্কেবারে ছোট। অনেক ক্ষেত্রে থাকবার অযোগ্য।অনেক বাগানেই চা-শ্রমিকদের নিজস্ব আবাসটুকুও নেই।এই নির্মান কাজ শেষ করে আবাসনগুলি তৈরী হলে অনেকটা নিশ্চিন্ত হতে পারবে চা-শ্রমিকরা। প্রকল্পটিতে রাজ্যের হাউজিং বিভাগ নোডাল এজেন্সি হিসেবে থাকছে।প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, লঙ্কাপাড়া চা-বাগান জরিপ করে ৩২৯ একর, মুজনাই চা-বাগানে ৭৯ একর,ঢেকলাপাড়া চা-বাগানে ৭.০৮ একর সরকারি জমি পাওয়া গেছে। তবে নামমাত্র জমি তিনটি বাগানে বাড়ি তৈরিতে প্রয়োজন। লঙ্কাপাড়ায় ১৬.১৭ একর, মুজনাইতে ৮.২৯ একর, ঢেকলাপাড়ার মাত্র ৬ একর জমি নেওয়া হবে। লঙ্কাপাড়াতে ১৬৭৯টি পরিবার, মুজনাইতে ৮২৯টি পরিবার, ঢেকলাপাড়ায় ৬০০টি এবং তোর্ষা চা-বাগানে ৩৫১টি চা-শ্রমিক পরিবারের হাতে বাড়ি তুলে দেওয়া হবে।

চা বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলেন, উত্তরবঙ্গে ৩০০-র বেশি পুর্নাঙ্গ চা-বাগান রয়েছে। গড়ে চা-বাগানগুলির আয়তন ৫০০ থেকে ১০০০ হেক্টরের মধ্যে। প্রতিটি বাগানে শ্রমিক আবাস নির্মানের জন্য ১৫ থেকে ২০ হেক্টর জমিই যথেষ্ট। উত্তরবঙ্গে এই মুহূর্তে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং জেলা মিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ টির কাছাকাছি বাগান বন্ধ রয়েছে। প্রতিটি বাগানে জমি পাওয়া যাবে।সেক্ষেত্রে অচল, বন্ধ চা-বাগানগুলি আগামীতে যদি খুলেও যায় সেক্ষেত্রেও নতুন মালিক এলে চায়ের উৎপাদনে কোনও সমস্যা হবে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশ এও বলেন, যদি কোনও খোলা, সচল চা বাগানেও শ্রমিক আবাস তৈরি হয়, যেমন মুজনাই সেখানে মালিকের যথেষ্টই লাভ হবে।কার্যত চা বাগিচা আইনে মালিকের বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার কথা। সেই দায়িত্ব রাজ্যের সরকার নিয়ে নিয়েছে।খোলা বাগানে জমি চিহ্নিতকরনের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। চা-গাছের জমি বাদ দিয়ে অনাবাদী চায়ের জমিতে আবাসন তৈরি হলে চা-বাগানগুলির কোনও সমস্যা হবে না উৎপাদনে।
এদিকে এই প্রকল্পের কাজ প্রথমধাপে শুরুর আগে জমি সহ সমস্তদিক পরিদর্শন করেন আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা সহ ভূমি দপ্তরের আধিকারিক, মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের প্রশাসনের কর্তার। জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা বলেন, দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা শেষ করার দিকে এগোচ্ছি আমরা। জমি জরিপের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।

