জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৯ জুন: বিকল্প সড়ক তৈরী হয়নি। তার ওপর আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই জাতীয় সড়ক থেকে বুদবুদ বাজারে যানবাহন ঢোকানোর রাস্তার মুখ বন্ধ করেছিল নির্মানকারী সংস্থা। আর তার জেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছিল সাধারণ মানুষ। অবশেষে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে রাস্তার বন্ধ মুখ খুলে দিল জাতীয় সড়কের নির্মানকারী সংস্থা।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকমাস ধরে ১৯ নং জাতীয় সড়কের পানাগড় ধরলা মোড় থেকে ডানকুনি পর্যন্ত ছয় লেন সম্প্রসারনের কাজ শুরু হয়েছে। কাজের গতি প্রকৃতিতে ক্ষুব্ধ বাস মালিক থেকে বাস কর্মীরা। অভিযোগ, পরিকল্পনাহীন ভাবে নির্মীয়মান উড়ালপুল, আন্ডারপাস এলাকায় সংকীর্ণ সার্ভিস লেন করা হয়েছে। তার ওপর ওইসব অস্থায়ী সার্ভিস লেনগুলি মজুবত না হওয়ায় মাঝে মধ্যে বসে যাচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনই যানজটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ।

বাসমালিক সমিতির অভিযোগ, যানজটের কারণে বাস নির্দিষ্ট সময়ে যেতে পারছে না। ব্যবসা মার খাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।” শুক্রবার থেকে বুদবুদ বাজার ও বাইপাসের সাধুনগর সংযোগস্থলের মুখে সিমেন্টের ডিভাইডার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে আসানসোল দুর্গাপুর থেকে বর্ধমানগামী বাসের বুদবুদ বাজারে ঢোকা বন্ধ হয়ে পড়েছে। আর তার ফলে বিপাকে যেমন যাত্রী বাস ও বুদবুদগামী যানবাহন, তেমনই চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। কোনো বাস বুদবুদ মানকর রোড ওভারব্রিজের ওপর যাত্রী নামাচ্ছিল, তো আবার কোনো বাস বুদবুদ ছাড়িয়ে প্রায় দু’ কিলোমিটার দূরে যাত্রী নামাচ্ছিল। আচমকা রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। তেমনই ব্যাবসায়ীরা চরম সমস্যায় পড়ে।

বুদবুদ বাজার চেম্বার অব কমার্স থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে আচমকা রাস্তা বন্ধে চরম ক্ষোভের সৃস্টি হয় এলাকায়। রাস্তা নির্মানকারী সংস্থার পরিকল্পনাহীন কাজে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। গ্রামবাসীদের দাবি, “জাতীয় স্বার্থে রাস্তা সম্প্রসারণ দরকার। তবে এভাবে সাধারণ মানুষকে অসুবিধায় ফেলে নির্মাণ কাজ করা উচিত নয়। রাস্তা বন্ধের ফলে কোনোরকম গাড়ি ঢুকতে পারছিল না। নির্মানকারী সংস্থার ভৌগলিক চিত্রটা দেখে কাজ করা উচিত। বিকল্প রাস্তা তৈরী করে, তারপর যেন বাজারে ঢোকার রাস্তা বন্ধ করা হয়।”

খবর চাউর হতেই পুলিশ ও প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। রবিবার শেষ পর্যন্ত ক্ষোভের মুখে পড়ে বন্ধ রাস্তার মুখ খুলে দেয়। এদিন দুপুরে পুলিশের উপস্থিতে জাতীয় সড়কের ক্রসিং পয়েন্টে দেওয়া সিমেন্টের ব্লক সরিয়ে দেওয়া হয়।
নির্মানকারী সংস্থা জানিয়েছে, গ্রামবাসীদের সমস্যার জন্য আপাতত ওই এলাকার বন্ধ রাস্তার মুখ খুলে দেওয়া হয়েছে।

