আমাদের ভারত, ৮ মার্চ: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বের শহর সুমিতে আটকে থাকা ৬৯৪ জন ভারতীয় পড়ুয়াকে উদ্ধার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এই খবর জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সোমবার রাতে সুমি শহর থেকে ভারতীয় পড়ুয়াদের বাসে তুলে পল্টোভা শহরে পাঠানো শুরু হয়। তিনি নিজে কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করেন। আজ ৬৯৪ জনকে সুমি থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, সুমিতে আটকে পড়া ভারত সহ বিভিন্ন দেশের পড়ুয়াদের দক্ষিণের শহর পল্টোভা থেকে সড়কপথে পশ্চিম সীমান্তে কোন দেশে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী সোমবার রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলেনেস্কির সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ফোনে কথা বলেন। সেই সময় মোদী সুমি সহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে আটকে থাকা ভারতীয় পড়ুয়াদের উদ্ধারের জন্য দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সাহায্য চেয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাতেই রুশসেনা সুমিতে হামলা শুরু করে। ফলে সেখানকার ভারতীয় পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। সুমি স্টেট ইউনিভার্সিটি হোস্টেলের পাশেই একটি কারখানায় বোমা পড়ায় সেখানকার পড়ুয়ারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বোমা পড়তেই সেই এলাকার জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। প্রবল শীতের মধ্যে কোনওরকমে বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় পড়ুয়ারা।
সুমির খুব কাছেই রাশিয়ার দিক থেকে আক্রমণ চালাচ্ছে পুতিন বাহিনী। কিন্তু বিদেশি পড়ুয়ারা দেশে ফিরছেন মূলত ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে। ফলে সেখান থেকে বর্ডার পেরিয়ে রোমানিয়া, হাঙ্গেরি অথবা পোল্যান্ডে গিয়ে দেশে ফিরছেন তারা। প্রাথমিকভাবে ভারতও এই পড়ুয়াদের সেই পথে ফেরানোর কথা ভেবেছিল। কিন্তু পুতিন সরকার প্রস্তাব দেয় রাশিয়া হয়ে পড়ুয়াদের দেশে ফেরানো হবে। তবে সেই প্রস্তাব ইউক্রেন নাকচ করে দেয়। আর তাতেই সমস্যা তৈরি হয়েছিল। শেষমেষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপে সোমবার সমস্যার সমাধান হয়।

