আমাদের ভারত, বর্ধমান, ১৭ মার্চ: তখনো সেভাবে ঘুম ভাঙেনি বর্ধমান শহরের। রাস্তায় অল্পবিস্তর গাড়ি ঘোড়া চলতে শুরু করেছে। বেশ কিছু বাইক ও চারচাকার গন্তব্যস্থল তখন সাধনপুর রোডের প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমারী ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে রাজযোগের পর সবাই মেতে উঠেছেন দোল উৎসবে।

বর্ধমান শহরের স্টেশন সংলগ্ন ফ্লাইওভার পার করে মহকুমাশাসকের বাংলো সংলগ্ন সাধনপুর রোডে যেতেই পড়বে একটা সাদা বিশাল ভবন। ওই ভবনই প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমারী ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয়। গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেই একটা অদ্ভূত অনুভূতি। প্রায় সকলেরেই পরনে সাদা পোশাক। কারোও মুখে কোন আওয়াজ নেই। এদের মধ্যে কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ শিক্ষক শিক্ষিকা কিংবা অন্য পেশার মানুষ। কিন্তু এখানে তাদের একটাই পরিচয়। তিনি বাবার সন্তান। তিনি একজন মানুষ। চোখাচোখি হলেই প্রত্যেকের মুখেই খেলে যায় শুধু হাসির ঝলক। করোনা পরিস্থিতির জেরে ভবনে প্রবেশ করতে গেলে মাস্ক তো পরতেই হবে। দেহের উষ্ণতা মাপার পরে হাত স্যানিটাইজ করার পরেই ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন সবাই। নিচে আছে ব্রহ্ম বাবার উপাসনা ঘর। সেখানে অনেকেই নিঃশব্দে ধ্যান প্রার্থনা করে চলেছেন। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় পৌঁছাতেই সেখানে এক অনন্য পরিবেশ। বিশাল একটা হল ঘরে সারিবদ্ধ ভাবে আট থেকে আশি শ-পাঁচেক মানুষ তখন মুরলী শুনতে মগ্ন। ওই সেবা কেন্দ্রের প্রধান বি কে রুমা তখন সেই মুরলী পাঠ করে তার অন্তর্নিহিত মানে এমনভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যাতে জীবনে চলতে গিয়ে কোন মানুষকে থমকে যেতে না হয়। নিত্যদিনের হাজারো সমস্যাকে কাটিয়ে উঠে যে কোন ব্যক্তি কিভাবে অভ্যাসের দ্বারা সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাবেন তা তুলে ধরছেন বি কে রুমা।
মুরলী শেষ হতেই মিনিট দশেক চলে রাজযোগ। ততক্ষণে চলে এসেছে রংবেরঙের আবির আর গোলাপ জল। রাজযোগ শেষে বি কে রুমা পিচকিরির সাহায্যে সকলকে গোলাপ জল দিয়ে স্বাগত জানান। প্রত্যেকের কপালে পরিয়ে দেন আবিরের তিলক। সকলেই মেতে ওঠেন বাবার সাথে দোল খেলায়। সব শেষে সকলের হাতে তুলে দেওয়া হয় বাবার ভোগ। সেই ভোগ নিয়ে প্রত্যেকের মুখেই তখন ধ্বনিত হচ্ছে ওঁ শান্তি!

