প্রাথমিকে নিয়োগ মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে বাগদার চন্দনের বাড়ি সিবিআই

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৭ জুলাই: প্রাথমিকে নিয়োগ মামলায় রাঘববোয়ালদের নামের পাশাপাশি চন্দন মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এরপর সিবিআই তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের, সেই নির্দেশে চন্দনের বাড়ি তল্লাশি করল সিবিআই।

শিক্ষক-নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে রঞ্জন-বোমাটি প্রথম ফাটিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিবিআইয়ের প্রাক্তন যুগ্ম অধিকর্তা উপেন বিশ্বাস। তবে এখন স্বনামেই চিহ্নিত রঞ্জন। আইনজীবীরা হাইকোর্টে জানিয়েছিল, উপেন-কথিত রঞ্জন আদতে উত্তর ২৪ পরগনা বাগদার মামাভাগিনা গ্রামের বাসিন্দা। তারপরই এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রয়োজনে চন্দনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে পারবে সিবিআই।

সম্প্রতি সৌমেন নন্দী নামে এক চাকরিপ্রার্থী প্রাথমিকে নিয়োগ-কেলেঙ্কারি নিয়ে মামলা করেছিলেন। সেখানে ৮৭ জনকে ­­­­বেআইনি ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে। সেই মামলাতেই চন্দনের নাম উঠে এসেছে। এদিন
হাইকোর্টের নির্দেশে চন্দনের বাড়ি তল্লাশি করতে আসে সিবিআইয়ের একটি দল। বেশ কিছু দিন ধরেই তাঁকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পাড়া-পড়শিরা। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করা যায়নি। অনেক দূর থেকে দেখা যায় সিবিআই আধিকারিকরা তাঁর পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলছেন।

সম্প্রতি ইউটিউব ভিডিয়োয় উপেন বিশ্বাস দাবি করেছিলেন, এলাকায় লোকে রঞ্জনকে ‘সৎ’ বলে মানেন। কারণ, তিনি নাকি টাকা নিয়ে চাকরি দেননি, এমনটা হয়নি। চাকরি না দিতে পারলে সুদ-সহ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন, এমন উদাহরণও আছে। তিনি ‘গোপনীয়তার স্বার্থে’ রঞ্জনের আসল নাম ভিডিয়োয় না জানালেও দিন কয়েক আগে বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার বলেছিলেন, ‘‘বাগদায় এক চন্দন আছেন। শুনেছি টাকার বিনিময়ে তিনি ১৭০০ লোককে চাকরি দিয়েছেন।’’ বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়াও দিন কয়েক আগে চন্দনের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তিনি বলেন, “হাইকোর্ট সিবিআইকে বলেছে, চন্দন মণ্ডলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে। এতে রাজ্যের সেই সব যোগ্য প্রার্থীদের সুরাহা হবে, যাঁরা চাকরি পাননি।”

ভিডিয়োয় উপেন দাবি করেছিলেন, প্রাথমিকে ১০ লক্ষ, উচ্চ প্রাথমিকে ১৫ লক্ষ, হাইস্কুলের চাকরি ১৮-২০ লক্ষ টাকায় পাইয়ে দিতেন রঞ্জন। এলাকায় গিয়ে জানা গিয়েছে, লক্ষ লক্ষ টাকা তাঁর হাত দিয়ে আদানপ্রদান হলেও রঞ্জন ওরফে চন্দনের জীবন ছিল সাদামাঠা। স্কুটিতে ঘুরতেন। বাড়িঘরও বিশাল কিছু নয়। তবে সকাল থেকে বাড়ির সামনে ভিড় লেগে থাকত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের দাবি, তাঁর হয়ে একাধিক ‘এজেন্ট’ ইদানীং ‘কাজ’ করছিল এলাকায়। গত কয়েক বছরে তাদেরও আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *