মা কালী বিতর্কের জবাব, বিজেপির সভায় জয় মা কালী স্লোগান

শ্রীরূপা চক্রবর্তী
আমাদের ভারত, ৭ জুলাই:
বিজেপির রাজনৈতিক সভায় যে স্লোগান বার বার শোনা যায় সেটা হলো জয় শ্রী রাম। অনেকেই বলে থাকেন এই স্লোগানের সাথে বাঙালি একাত্ম হতে পারে না পুরোপুরি। বরং সেখানে যদি জয় মা কালী বলা হয় তাহলে বাঙালি অনেক বেশি তা আপন করে নেবে। এবার বিজেপির রাজনৈতিক মঞ্চে সেই জয় মা কালী ধ্বনি শোনা গেল, তাও আবার খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের গলায়। যদিও সম্প্রতি তৈরি হওয়া হিন্দু দেবী মা কালীকে নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতেই এই স্লোগান দিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের রামগঙ্গার সভাতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন দুয়ারে বাংলা প্রকল্প চলছে, দিদিমণি বাংলার(মদ) দাম কমিয়েছেন, দুয়ারে মহুয়া প্রকল্প চলছে, আর দিদিমণির মহুয়া মা কালীর অবমাননা করছেন। তিনি বলেন, “দিদিমণির মহুয়া মা কালী সম্পর্কে বাজে কথা বলছেন। এই বিষয়টি আমরা কখনোই সহ্য করব না।” এরপরই তিনি জয় মা কালী বলে ধ্বনি দিতে শুরু করেন। উপস্থিত জনতাও তাঁর সাথে সোচ্চারে জয় মা কালী স্লোগান দিতে থাকে। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা এই ধরনের স্লোগান আমাদের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দেওয়া পছন্দ না করলেও মুখ্যমন্ত্রীর কাজে আমরা বাধ্য হচ্ছি। জোরে বলুন জয় মা কালী।”

তিনি বলেন এতো জোরে স্লোগান দিতে হবে যাতে মহুয়া মৈত্রের কান পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে এই জয় মা কালী স্লোগান। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “আমরা বাড়িঘর জ্বালাবো না আমরা রাস্তা অবরোধ করবো না। কিন্তু আমরা আইনত পথে আমাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।

এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি নবি বিতর্কের কথা, অগ্নিপথ প্রকল্পের বিরোধিতায় সরকারি সম্পত্তি নষ্ট সহ রাজ্যে তৈরি উত্তপ্ত পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি নাম না করেই বলেন, তাদের রাস্তা অবরোধ, অগ্নি সংযোগের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছিল, সেই দুধেল গাইদের সামনে হাতজোড় করেছেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখেও চুপ করে বসেছিল তৃণমূল সরকারের পুলিশ। দু’জন মহিলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এম্বুলেন্সে প্রসব করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আর মমতার পুলিশ প্রশাসন চুপ করে বসে বসে সেটা দেখেছিল।

সুকান্ত মজুমদার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রী যদি মনে করে থাকেন তিনি পশ্চিমবঙ্গকে লুম্পেনদের হাতে তুলে দেবেন, ভারতীয় জনতা পার্টি কখনোই তা হতে দেবে না।”

একই সঙ্গে তিনি দলের নেতা কর্মীদের আগামী ২৪–এ ডবল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন। তাঁর কথায় লোকসভা নির্বাচনের সাথে বিধানসভা নির্বাচন ২৬–র বদলে ২৪–এ–ই হয়ে যেতে পারে। কারণ তৃণমূল খেলা হবে খেলা হবে গান চালালেও আসল খেলা তো খেলেন অমিত শাহ, যা সম্প্রতি তিনি মহারাষ্ট্রে খেলে দেখিয়ে দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *