স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১ মার্চ: রায়গঞ্জ শহরে ডাক্তারদের চেম্বারেও দালালরাজের অভিযোগ। নাম লেখানোর নেপথ্যে চলছে আর্থিক লেনদেন। ফলে বিপাকে পড়ছেন গরিব-দুঃস্থ মানুষজন। দালালকে পয়সা দিতে না পারায় অনেককেই ডাক্তার না দেখিয়ে ফিরতে হচ্ছে। বুধবার এ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরী হয় রায়গঞ্জের এক শিশু বিশেষজ্ঞের চেম্বারে। ঘটনাস্থল থেকে ৪ দালালকে আটক করেছে পুলিশ।
রায়গঞ্জ শহরে বিভিন্ন ডাক্তারের চেম্বারে রমরমিয়ে চলছে দালাল চক্র। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ডাক্তারদের চেম্বারে একদিকে লাইনে দাঁড়িয়েও যখন নাম লেখাতে পারছেন না রোগীর আত্মীয়রা। তখন অন্যদিকে দালালরা টাকার বিনিময়ে নাম লেখানোর ব্যাবস্থা করে দিচ্ছে। শহরজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিযোগ উঠে আসছিল। মূলত রায়গঞ্জে শহর ছাড়িয়ে জেলা এমনকি পার্শ্ববর্তী জেলা ও সংলগ্ন বিহারের একাংশের মানুষ ডাক্তার দেখাতে আসেন প্রতিনিয়ত। ভোর রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে নাম লেখাতে হয়। দিনভর দাঁড়িয়ে থেকেও শুধুমাত্র দালাল চক্রের কারনে অনেকসময় ডাক্তার না দেখিয়েই ফিরে যেতে হয় বাড়িতে।
বুধবার শহরের হাসপাতাল রোডে অবস্থিত এক শিশু রোগ বিশেষজ্ঞের চেম্বারে এই দালালচক্র নিয়ে চূড়ান্ত অসন্তোষ তৈরী হয় রোগীর পরিজনদের মধ্যে। চূড়ান্ত ক্ষোভ উগরে দেন রোগীর আত্মীয়রা। তাদের অভিযোগ, নিয়মানুযায়ী এই চেম্বারে ফোনের মাধ্যমে নাম লেখানোর কথা। কিন্তু সকাল থেকে বার বার নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করেও সম্ভব হয়নি যোগাযোগ করা। এরপর উপায় না পেয়ে চেম্বারে এসে চক্ষু চড়ক গাছ তাদের।
তাদের অভিযোগ, এখানে দালালরা নাম লেখানোর জন্য কারো থেকে ২০০, ৩০০ কিংবা ৫০০ করে টাকা নিচ্ছে।

ইমরান রহমান নামের এক ব্যক্তি ১০ মাসের অসুস্থ শিশুকন্যাকে নিয়ে এসেছেন কুনোর থেকে। তিনিও একই ভাবে সমস্যায় পড়েন। তিনি বলেন, সকাল থেকে ফোন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এখানে এসে দেখছেন নামের তালিকা ভর্তি। কি করে এটা সম্ভব? এর নেপথ্যে ওষুধের দোকানদার থেকে নাম লেখার দায়িত্বে থাকা কর্মী সকলেই জড়িত বলে দাবি তার।
ঘটনার কথা শোনার পর এদিন পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে। ৪ জন দালালকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু যে চিকিৎসকের চেম্বার ঘিরে বুধবার এই ঘটনা ঘটে। সেই চিকিৎসক অবশ্য ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।
এখন কতদিনে এই দালাল চক্র পুরোপুরি বন্ধ হয় সেদিকেই তাকিয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধরন মানুষজন।

