আমাদের ভারত, ২৯ মার্চ:
স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন ২০২২-র মধ্যে দেশের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছে তাঁর সরকার। গত কয়েক বছর ধরেই প্রধানমন্ত্রী সহ কেন্দ্রের বহু মন্ত্রী এই দাবি করে আসছেন, দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে অর্থাৎ ২০২২ সালের মধ্যে দেশের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা হবে। এই প্রসঙ্গে নীতি আয়োগ বলেছে, কৃষি আইন লাগু না করা গেলে আগামী বছরের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে তা পূরণ করা সম্ভব নয়।
রবিবার নীতি আয়োগের অন্যতম সদস্য রমেশ চাঁদ বলেছেন, জরুরী ভিত্তিতে কৃষি আইন কার্যকর যদি না করা যায় তাহলে ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। তিনি বলেন, কৃষকদের উচিত কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে এই আইন তাড়াতাড়ি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভাবনাচিন্তা শুরু করা।
নীতি আয়োগের এই সদস্যের মতে, কিছু দিলে কিছু পাওয়া যাবে এই তত্ত্ব মেনে কাজ করতে হবে দুই পক্ষকে। উভয় পক্ষ নিজেদের দাবিতে অনড় থাকায় এখনো কোনো পক্ষই লাভবান হয়নি। তাঁর কথায় কৃষকদের ধারণা, এই আইন রাজনৈতিক। ওঁরা এটাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছে। ওঁরা ভালো করে খতিয়ে দেখুন এবং তারপর আমাদের বলুক যে, এইব আইনে এই শর্ত আমাদের স্বার্থ রক্ষা করছে না। স্পষ্ট ভাবে বলতে গেলে যেভাবেই হোক দ্রুত কৃষি আইন কার্যকর করতেই হবে, না হলে লক্ষ্যে পৌঁছনো অসম্ভব হয়ে যাবে।
কেন্দ্রের পাস করানো তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে গত কয়েক মাস ধরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। ২৬ মার্চও আইন বাতিলের দাবিতে ভারত বনধ ডেকেছিল কৃষক সংগঠনগুলি। আন্দোলনের তাপ কিছুটা কমলেও কৃষকরা এখনো অনড়। তাদের দাবি, আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনও প্রশ্ন নেই। কৃষক আন্দোলনের চাপে আইনগুলো কার্যকর করতে পারেনি সরকার। সুপ্রিম কোর্টও সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে।

