উত্তর দিনাজপুরে মাশরুম দিয়ে আচার, পাঁপড়, বড়ি তৈরি করছেন মহিলারা

স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ১১ জুন: বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো মাশরুম দিয়ে আচার, পাঁপড়, বড়ি সহ ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের নানান খাবারের জিনিস উৎপাদন করে সাফল্য পেয়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার মাসরুম চাষীরা। মূলত গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর হয়ে ওঠার অন্যতম মাধ্যম হল এই মাশরুম চাষ। কিন্তু লকডাউনের জেরে তাঁদের উৎপাদিত মাসরুম বাইরের বাজারে বিক্রি করতে না পারায় কিছুটা সমস্যার মুখে পড়েছেন তাঁরা। তাই তাঁরা মাশরুম দিয়ে আচার, পাঁপড় বড়ি তৈরি করে তা প্যাকেটজাত করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন।

উত্তরবঙ্গের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন উত্তর দিনাজপুর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের চোপড়ায় অবস্থিত ধন্দুগছ মাশরুম কৃষি প্রদর্শনী ক্ষেত্র থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে চোপড়ার সোনাপুর গ্রামপঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি গ্রামের মহিলারা মাশরুম চাষে প্রশিক্ষন নিয়ে উৎপাদন করে চলেছেন অত্যন্ত উপাদেয় খাদ্য মাশরুম। এইসব মাশরুম চাষীদের মূল বাজারটাই নির্ভর করে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও পানিট্যাঙ্কিতে। কিন্তু সেসব জায়গায় লকডাউনের কারনে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় তাঁদের উৎপাদিত মাশরুম বাইরের বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না। এই অবস্থায় মাশরুম চাষের সাথে যুক্ত মহিলারা তাঁদের উৎপাদিত মাশরুম দিয়ে তৈরি করছেন আচার, পাঁপড় ও বড়ির মতো নানান স্বাদের খাদ্যসামগ্রী, যা বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলিতে বিক্রি করার পাশাপাশি লকডাউন খুললে বাইরের বাজারে রপ্তানি করার পরিকল্পনা গকরেছেন।

উত্তর দিনাজপুর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ডঃ অঞ্জলি শর্মা জানিয়েছেন, এলাকার অধিকাংশ মাশরুম চাষি প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত। তাঁদের মধ্যে অনেকেই মাশরুম চাষ করে সংসার প্রতিপালন করে থাকেন। তাঁদের উৎপাদিত মাশরুম লকডাউনের কারনে বাইরের বাজারে বিক্রি করতে না হওয়ায় সেই মাশরুম দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের মাশরুম আইটেম যেমন আচার, পাঁপড় ও বড়ি সহ নানান খাদ্যসামগ্রী তৈরি করে তা বোতল বা প্যাকেটজাত করে স্থানীয় বাজারেই বিক্রি করছেন। লাভের মুখও দেখছেন চোপড়ার মহিলা মাশরুম চাষীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *