স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ৭ মে: সরকার গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ না করলেও নির্দেশিকা জারি করেছে ৫০ শতাংশ বাস রাস্তায় নামিয়ে করোনা বিধি মেনে পরিষেবা দেওয়ার। কিন্তু লকডাউনের ফলে যাত্রী না মেলায় সরকারি নির্দেশিকার আগে থেকেই মাত্র ২০ শতাংশ বেসরকারি বাস চলছে উত্তর দিনাজপুর জেলাতে। চরম ক্ষতির মুখে পড়ে এবার বাস রাস্তায় নামানো বন্ধ করে দিতে চাইছেন উত্তর দিনাজপুর বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
দোকানপাট সব বন্ধ থাকলে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষই তো আসবেনা আর শহরগুলোতে মানুষ না আসলে বেসরকারি বাস চলবে কিভাবে। আর এভাবে রাস্তায় বাস নামিয়ে প্রতিটি বাস মালিকের কমপক্ষে দেড়-দুহাজার টাকা করে ক্ষতি হবে। কোনও বাস মালিকই ক্ষতি স্বীকার করে বাস চালাতে চাইবেনা। ফলে এখনও রাস্তায় যে ২০ শতাংশ বাস চলছে তাও বন্ধ হয়ে পরবে। আর লকডাউন এভাবে চলতে থাকলে বাস পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানালেন উত্তর দিনাজপুর জেলা বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্লাবন প্রামানিক।
বুধবার রাজভবনে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নবান্ন থেকে নির্দেশিকা জারি হয় ৫০ শতাংশ বেসরকারি বাস পরিষেবা দেওয়ার। সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা এবং বিকেল ৫ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত হাট বাজার, দোকানপাট খোলা থাকবে, বাকি সময় সব বন্ধ থাকবে। এর পাশাপাশি শপিংমল, সিনেমাহল, বার, রেস্তোরাঁ, স্পা, জিম সবকিছু পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তায় লোক চলাচল ও ভিড় এড়াতেও ব্যবস্থা গ্রহন করেছে পুলিশ প্রশাসন।
এই আংশিক লকডাউনের ফলে শহরগুলিতে বাইরের গ্রামগঞ্জ এলাকা থেকে কেউই আর আসছেনা। গণপরিবহন ব্যাবস্থা চালু থাকলেও সাধারন মানুষ যদি গ্রামগঞ্জ থেকে শহরে না আসে কিংবা বাইরে কোথাও যাওয়া আসা না করে তাহলে যাত্রীর অভাবে এমনিতেই বন্ধ হয়ে পড়বে বেসরকারি পরিবহন ব্যাবস্থা। উত্তর দিনাজপুর জেলা বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্লাবন প্রামানিক জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের আগেই উত্তর দিনাজপুর জেলায় এখন রাস্তায় ২০ শতাংশ বেসরকারি বাস চলাচল করছে। যাত্রী না পাওয়া গেলে ক্ষতির মুখে পড়ে বন্ধ হয়ে যাবে তাদের বাস পরিষেবা এবং প্রতিদিন দেড়-দুহাজার টাকা ক্ষতির মুখে পড়ে আর রাস্তায় বাস নামাবেন না বলে জানিয়েছেন বাস মালিক সংগঠনের উত্তর দিনাজপুর জেলার সাধারন সম্পাদক প্লাবন প্রামানিক।

