স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২জানুয়ারি: ফের নদিয়ার নবদ্বীপে সংবাদ মাধ্যমের উপর আক্রমন করার অভিযোগ। জানা যায়, এদিন শহরের ২৪ নং ওয়ার্ডের প্রফুল্ল নগর এলাকায় একটি খবর করতে যায় বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা। সেই সময় ওই এলাকার একদল দুষ্কৃতী তাদের উপর হামলা চালায়। এমনকি দেখে নেওয়ার হুমকি সহ চলে ক্যামেরা ভেঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা। এর আগেও একই ঘটনা ঘটেছে সিএন বাংলার সাংবাদিকের উপর। এমনকি তার বাড়িতে গুলি চালিয়ে বাড়িতে ভাঙ্গচুর চালানো হয় রাতের অন্ধকারে। কিছুদিন আগে বালি ও মাটি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে খবর করার জন্য এবং নবদ্বীপ শহরের প্রবেশ পথ দিয়ে শহরে ঢোকার বিভিন্ন রাস্তায় নবদ্বীপ পৌরসভার বেআইনি টোল ট্যাক্স আদায়ের খবর করার জন্য এই ঘটনা ঘটে। একের পর এক নবদ্বীপ পৌরসভা ও তৃণমূলের নেতা ও কর্মীদের এইসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে খবর সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য সাংবাদিক ও ক্যামেরা ম্যানদের উপর আক্রমন করা হয় বলে অভিযোগ।

এদিন তারই প্রতিফলন পুনরায় দেখা গেল। এদিনের ঘটনা, নবদ্বীপ পৌরসভার প্রফুল্ল নগর এলাকায় এক বাড়ির পানীয় জলের লাইন কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই এলাকার বাসিন্দা দিলীপ অধিকারীর পরিবারের সাথে সাংবাদিকরা কথা বলতে গেলে তখনি বেশ কিছু শাসক দলের দুষ্কৃতী ও গুন্ডাদের বিরুদ্ধে তাদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে।
জানা যায়, নবদ্বীপ পৌরসভায় পানীয় জলের জন্য দিলীপ অধিকারীর আবেদনের ভিত্তিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে গত ২৩ শে ডিসেম্বর জলের লাইন দেওয়া হয়, এবং সঙ্গে সঙ্গে তিন হাজার টাকা চাওয়া হয়। সেই মুহূর্তে টাকা না দিতে পারায় তারা সেদিন চলে যান। এবং কোনো রকম নোটিশ ছাড়াই গত ২০২২ সালের শেষদিন ৩১ শে ডিসেম্বর হঠাৎ করে সরকারি পানীয় জলের কল খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে পৌরসভার কর্মীদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি এই বিষযে তাদের কোনো কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিক দিলীপ অধিকারী।
তবে পুনরায় সরকারি জল সরবরাহের সুবিধা পেলে শারীরিকভাবে অসুস্থ দম্পতির পরিবার অনেকটাই উপকৃত হবে বলে জানান তারা।

এই বিষয়ে ওই এলাকার তৃণমূলের নির্বাচিত কাউন্সিলর পারুল দেবনাথ বলেন, তিনি এসবের কিছুই জানেন না। এছাড়া এরকম কোনো অভিযোগ নিয়ে তার কাছে এখনো পর্যন্ত ওই অধিকারী দম্পতি আসেননি বলেও দাবি করেন তিনি। আর এদিন এই সংক্রান্ত খবরের জন্য বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা ঐ এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলতে গেলে আচমকাই তাদের ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতিরা। চলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, এমনকি আঙুল উঁচিয়ে ধমকও দিতে দেখা যায় ঐ দুষ্কৃতিদের, চলে ধাক্কা ধাক্কি, ক্যামেরা ভেঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা।
কিন্তু প্রশ্ন হল কারা এই দুষ্কৃতি? কি লাভ তাদের সাংবাদিকদের কন্ঠ রোধ করে? এই প্রশ্ন গুলোই তাদের সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যক্ষ যোগ সাজোস প্রমাণ করে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

